রংপুরে বিভাগের বিভিন্ন জেলায় দিনের বেশির ভাগ সময় সূর্যের দেখা মিলছে না। সন্ধ্যার পর থেকেই অনেক স্থান কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে। তাপমাত্রা ওঠানামা করছে ৮ দশমিক ৮ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। এ অবস্থায় উত্তরাঞ্চলে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাবও বেড়েছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে দুই শিশুর মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। এছাড়া ঠাণ্ডাজনিত রোগ নিয়ে বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে আক্রান্তরা।
বিভাগের অন্যতম সরকারি চিকিৎসালয় রমেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর ভিড় দেখা গেছে। তাদের মধ্যে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা ও ডায়ারিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যাই বেশি।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. কানিজ সাবিহা স্বাক্ষরিত পত্র থেকে জানা গেছে, ২২-২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সাতদিনে শিশু ওয়ার্ডে ৫৩ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ২৩ ডিসেম্বর দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের একজন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মোস্তাফিজারের সাড়ে তিন বছর বয়সী কন্যা সন্তান মরিয়ম। ১৮ ডিসেম্বর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল। মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ডাউন সিনড্রোম, সঙ্গে নিউমোনিয়া ও জন্মগত হৃদরোগ। অপরজন রংপুরের পীরগাছা উপজেলার রহিমের দুই বছর বয়সী ছেলে শেখ সাদী। ১৯ ডিসেম্বর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল তাকে। মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তীব্র শ্বাসকষ্ট ও গুরুতর শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, রংপুর বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত ঠাণ্ডাজনিত রোগে চিকিৎসা নিয়েছে ১৩ হাজার ১৭৭ জন। এর মধ্যে এআরআই শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে চিকিৎসা নিয়েছে ১ হাজার ৯৯০ জন এবং ডায়রিয়ায় চিকিৎসা নিয়েছে ১১ হাজার ৬২ জন।
ঠাণ্ডায় মূলত শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ে। এ সময়ে শিশুদের বিশেষ যত্ন নেয়া, কুসুম গরম পানি পান করানো খাবারের আগে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার কথা বলছেন চিকিৎসকরা। শিশুদের যাতে ঠাণ্ডা না লাগে সেদিকেও লক্ষ্য রাখার কথাও বলেছেন তারা।
এ ব্যাপারে রংপুর বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. গওসুল আজিম চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিরূপ আবহাওয়ার কারণে ঠাণ্ডাজনিত রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই শিশু মারা গেছে। এছাড়া বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ অন্যান্য হাসপাতালে ঠাণ্ডার কারণে কোনো রোগী মারা যায়নি। রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার জন্য চিকিৎসকরা প্রস্তুত রয়েছেন। স্যালাইন ও ওষুধের কোনো ঘাটতি নেই।’










