চলতি বছরের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত তিন মাসে পোশাক রফতানি প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার কমবে বলে প্রক্ষেপণ করেছে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পুরো মার্চ ও এপ্রিলের প্রথম সাতদিনের পরিসংখ্যান থেকে পোশাক রফতানির পরিমাণ ও প্রবৃদ্ধি বিশ্লেষণ করে এ প্রক্ষেপণ করেছে সংগঠনটি।

বিজিএমইএ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে পোশাক রফতানি হয় ১৯৭ কোটি ২২ লাখ ৪০ হাজার ডলারের। ২০১৯ সালের মার্চে রফতানি হয়েছিল ২৮২ কোটি ৫০ লাখ ৭০ হাজার ডলারের। এ হিসাবে রফতানি কমেছে ৩০ দশমিক ১৯ শতাংশ।

এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে সংগৃহীত তথ্য থেকে বিজিএমইএ বলছে, চলতি এপ্রিলের প্রথম সাতদিনে রফতানি হয়েছে ১২ কোটি ৯৪ লাখ ডলারের পোশাক। ২০১৯ সালের এপ্রিলের প্রথম সাতদিনে রফতানি হয় ৫৮ কোটি ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারের পোশাক। এ হিসাবে সাতদিনে রফতানি কমেছে ৭৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

এপ্রিলের সাতদিনের এ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এপ্রিল শেষে ৭৬ কোটি ১৭ লাখ ডলারের পোশাক রফতানি হবে বলে প্রক্ষেপণ করেছে বিজিএমইএ। ২০১৯ সালের এপ্রিলে পোশাক রফতানি হয় ২৫৩ কোটি ৯২ লাখ ৮০ হাজার ডলারের। এ হিসাবে এপ্রিলে রফতানি ৭০ শতাংশ কমবে বলে প্রক্ষেপণ করেছে বিজিএমইএ।

২০১৯ সালের মে মাসে ৩২৪ কোটি ৩১ লাখ ৮০ হাজার ডলারের পোশাক রফতানি হয় বাংলাদেশ থেকে। চলতি বছর মে মাসে ৭০ শতাংশ কমে ৯৭ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার ডলারের প্রক্ষেপণ করেছে বিজিএমইএ।

মার্চ-মে তিন মাসে ৩৭০ কোটি ৬৯ লাখ ৮০ হাজার ডলারের পোশাক রফতানি হবে বলে প্রক্ষেপণ করেছে বিজিএমইএ। গত বছর মার্চ থেকে মে পর্যন্ত পোশাক রফতানি হয় ৮৬০ কোটি ৭৫ লাখ ৩০ হাজার ডলারের। এ হিসাবে তিন মাসে ৫৬ দশমিক ৯৩ বা ৪৯০ কোটি ডলারের কম পোশাক রফতানি হবে বলে প্রক্ষেপণ করেছে সংগঠনটি।

বিজিএমইএর হিসাব বলছে, ৪৯০ কোটি বা ৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের রফতানির বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি বা ঋণপত্র দায়ের পরিমাণ হবে ১ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। আর এই পরিমাণ দায় আগামী দিনগুলোতে বহন করতে হবে কারখানা মালিকদের। কভিড-১৯-এর প্রভাবে বিদ্যমান পরিস্থিতি ও আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে কারখানা মালিকদের আর্থিক সক্ষমতা সম্পর্কে নীতিনির্ধারকদের ধারণা দিতেই প্রক্ষেপণটি তৈরি করেছে সংগঠনটি।