লক্ষ্মীপুরে ঘরে ঢুকে এক প্রবাসীর স্ত্রী ও তার ৮ বছর বয়সী মেয়েকে এলোপাতারি কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে সৌদি প্রবাসী নবী উল্লাহর দূর সম্পর্কের ভাই জাহিদ এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন। এরই মধ্যে তাকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার (০৩ অক্টোবর) রাতে সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের বালাইশপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুত্বর আহত মরিয়ম বেগম ও তার মেয়ে স্কুলছাত্রী সাদিয়াকে প্রথমে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তির পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার ড. এ এইচ এম কামরুজ্জামান ও চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিনসহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তরা। তবে রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত কী কারণে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে তা জানাতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সদর উপজেলার বালাইশপুর দেওয়ান বাড়ির সৌদি প্রবাসী নবী উল্লাহর স্ত্রী  মরিয়ম বেগম ও তার এক ছেলে-দুই মেয়ে নিয়ে বাড়িটিতে বাস করছেন। শনিবার রাতে ওই বাড়িতে চিৎকারের শব্দ শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মা মরিয়মের বাম হাতের ৪টি আঙ্গুল পড়ে যায়, ডান হাতও মারাত্মক জখম হয়, তার মেয়ের মাথার পেছনের অংশে একাধিক কোপের চিহ্ন রয়েছে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। পরে তাদের উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্থানীয়রা।

তাদের উদ্ধারকারী প্রতিবেশী আমানত উল্লাহ জানান, প্রবাসী নবী উল্লাহর প্রতিবেশী জাহিদ এ হামলায় জড়িত রয়েছে বলে প্রবাসীর আহত স্ত্রী মরিয়ম তাকে জানিয়েছেন। অভিযুক্ত জাহিদ একই বাড়ির আবু তাহেরের ছেলে। 

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আসিফ মাহমুদ জানান, দুই হাতের কব্জি কাটা ও মাথায় জখম নিয়ে মা ও মেয়েকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আশঙ্কা মুক্ত না হওয়ায় মাকে পঙ্গু হাসপাতাল ও মেয়েকে নিউরো সায়েন্স মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার ড. এএইচএম কামরুজ্জামান জানান, পূর্বশ্রক্রতার জের ধরে এ হামলার ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। হামলার কারণ ও জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে বলেও জানান তিনি।