উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণে যমুনা নদীর পানি বেশ কয়েকদিন ধরে বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টের পর এবার কাজিপুর পয়েন্টেও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে পানি। গত শুক্রবার রাতে কাজিপুর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
গতকাল সকালে সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে যমুনার পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৮ মিটার। সিরাজগঞ্জে ২ পয়েন্টেই যমুনায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যমুনার পানি আরো দু-একদিন বাড়বে। এরপর কমতে থাকবে। তাই বড় ধরনের বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই। ভয় বা আতঙ্কের কিছু নেই। এদিকে যমুনার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার কাজিপুর, সদর উপজেলা, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার ৪২টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে এসব অঞ্চলের আবাদি জমি। প্রতিদিনই পানিবন্দি হয়ে পড়ছে এসব এলাকার মানুষ।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রণজিৎ কুমার সরকার জানান, তিনদিন ধরে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল সকালে সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে যমুনার পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৮ মিটার। ২৪ ঘণ্টায় ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৯০ মিটার)। অন্যদিকে কাজিপুরের মেঘাই পয়েন্টে গতকাল সকালে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৯১ মিটার। সেখানেও ২৪ ঘণ্টায় ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (বিপৎসীমা ১৪ দশমিক ৮০ মিটার)।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের বরাত দিয়ে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রণজিৎ কুমার সরকার আরো জানান, যমুনার পানি আরো দু-একদিন বাড়বে। এরপর কমতে পারে। তাই এখন বড় বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই।
সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘বন্যা মোকাবেলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের নেয়া আছে। চরাঞ্চলের বেশকিছু পরিবার পানিবন্দি। তাদের জন্য বরাদ্দ পাঠানো হয়েছে। তবে শঙ্কার কিছু নেই। বড় কোনো বন্যা হওয়ার আশঙ্কা কম।’










