বন্যার পাশাপাশি মানুষের দুর্ভোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফোরলেন সড়ক। বেহাল এই সড়কটি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে শত শত যাত্রীবাহী ও অন্যান্য গাড়ি। ভাঙাচোরা রাস্তায় কোনো একটি গাড়ি বেকায়দায় পড়লে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে রাস্তাটি।

ঘাটুরা মোড় থেকে মেডিকেল পর্যন্ত আড়াইশ মিটার জায়গা বিপজ্জনক। এছাড়া পীরবাড়ি থেকে কাউতলী, রাধিকা, গজারিয়া, উজানিসার থেকে ধরখার পর্যন্ত সড়কের অবস্থা আরো খারাপ। এসব রাস্তায় নির্বিঘ্নে কোনো গাড়ি চলাচল করতে পারে না। 

এদিকে আশুগঞ্জ নৌ-বন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়কের কাজ এখন বন্ধ। ভারতীয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সবাই দেশ ছেড়েছেন। সাময়িক চলাচলের অবস্থাও নেই এসব সড়কে। 

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার এই সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ভারতীয় ঋণ সহায়তা ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ৫ হাজার ৭৯১ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের ৩০ জুন। সরকার পরিবর্তনের পর ১০ আগস্ট বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যায় ভারতীয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা কবে ফিরবেন, কবে আবার কাজ শুরু হবে তাও অনিশ্চিত। 

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ৩টি প্যাকেজে এই কাজ চলছে। এর মধ্যে আশুগঞ্জ থেকে সরাইল মোড় পর্যন্ত ১ নম্বর প্যাকেজের কাজ হয়েছে ৬২ ভাগ। দ্বিতীয় প্যাকেজ সরাইল মোড় থেকে তন্তর পর্যন্ত কাজ হয়েছে ৫২ ভাগ। আর তৃতীয় প্যাকেজে থাকা তন্তর থেকে আখাউড়া পর্যন্ত কাজ শুরুই হয়নি। গড়ে সড়কের কাজ ৫০ ভাগ হয়েছে। বর্তমানে আশুগঞ্জ গোল চত্বর থেকে তন্তর পর্যন্ত বিভিন্নস্থানে প্রায় ৪ কিলোমিটার অংশ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। 

প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মো. শামীম আহমেদ বলেন, এটি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে তা আমরা এখনো জানি না। এটি ভারতীয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের হাতে ছিল। তারা সবাই সেফটি ইস্যুতে নিজের দেশে চলে গেছেন। আমরা বিষয়টি চিফ স্যার এবং সচিব স্যারকে বলার চেষ্টা করছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, এতে তাদের করণীয় কিছু নেই। কাজ করলে প্রকল্পের মাধ্যমেই করতে হবে।

এদিকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সড়কে সৃষ্ট জনদুর্ভোগের বিষয়টি জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের কাছে আলাদা চিঠি দিয়েছেন।