চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধের বড় রেলস্টেশন এলাকায় ইউ আকৃতির ওয়াকওয়ে নির্মাণকাজ চলছে। এরই মধ্যে ওয়াকওয়েতে ভিড় বেড়েছে পর্যটকদের। নিয়মিত ট্রলার ও নৌকাসহ বিভিন্ন নৌযান আসা-যাওয়ার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে বাঁধের একাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যায়ক্রমে ওয়াকওয়েতে বেঞ্চ, রেলিং, ড্র্রেনেজ ব্যবস্থা, ক্যাফেটেরিয়াসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ হবে। তবে প্রকৌশলীরা বলছেন, এ কাজে বাঁধের কোনো ক্ষতি হবে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয় এবং ব্লক ডেবে যায়। এর ওপর আবার নির্মাণকাজের কারণে বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণই থেকে যাচ্ছে। বর্ষায় রেলস্টেশনসংলগ্ন স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে ডাকাতিয়া, পদ্মা ও মেঘনার পানি প্রবাহিত হয়। তখন শহর রক্ষা বাঁধের মোলহেডে দর্শনার্থীর প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।
ওয়াকওয়ে নির্মাণকাজ করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আগামী জুলাইয়ের মধ্যে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ওয়াকওয়ে নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা একজন সিনিয়র উপসহকারী প্রকৌশলী জানান, সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে শহর রক্ষা বাঁধের ক্ষতি হবে না। বাঁধ ঝুঁকিমুক্তই থাকবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করেই তারা কাজটি করছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার চাঁদপুর রেলস্টেশনের অবকাঠামসহ তিন নদীর মোহনার উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে আসেন রেলওয়ে চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, ‘চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনা পরিবর্তন না করে প্রাকৃতিকভাবে থাকা স্থানটির আরো সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এখানে যেসব গাছ আছে সেগুলো থাকবে এবং আরো নতুন করে শ্রীবৃদ্ধির জন্য গাছ লাগানো হবে। এছাড়া সবুজায়ন করার লক্ষ্যে এখানে ঘাস রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াকওয়ে তৈরি করা হচ্ছে এবং ক্যাফেটেরিয়া থাকবে। যাতে দর্শনার্থীর বিভিন্নভাবে সেবা দেয়া যায়। ওয়াকওয়ে নির্মাণের ফলে শহর রক্ষা বাঁধে কোনো প্রভাব পড়বে না বরং ঝুঁকিমুক্ত থাকবে।’
এ বিষয়ে চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম রেফাত জামিল বলেন, ‘শহর রক্ষার জন্য জরুরি ভিত্তিতে চরগুলো কেটে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা দরকার। পাশাপাশি বাঁধ রক্ষায় স্থায়ীভাবে প্রকল্প নিয়ে এখনই কাজ শুরু করা প্রয়োজন। তা না হলে চাঁদপুর শহরের অর্ধেকসহ ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চাঁদপুর-হাইমচর রক্ষা বাঁধও তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
এদিকে চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধ সংস্কারে ৮২০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পটি ডিসেম্বরে অনুমোদন পেলেও কাজ শুরু হওয়ার কথা মে মাসে। কাজটি শেষ হলে মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে বাড়িঘর, জনপথ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। তবে কাজটি বর্ষার আগেই শুরুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধের পুরানবাজার মন্দির এলাকা, পাইলট হাউজ, যমুনা রোড, লঞ্চঘাটের টিলাবাড়ী, হরিসভা ও পশ্চিম শ্রীরামদী পয়েন্টগুলোয় ভাঙন দেখা দেয়। তখন এসব এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। মেঘনা নদীর ভাঙনে বাড়িঘর, জনপথ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বাঁধটির ৩ হাজার ৩৬০ মিটার এলাকার কাজ শেষ হলে এলাকাগুলোর প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা পাবে।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শহর রক্ষা বাঁধের ৩ হাজার ৩৬০ মিটার এলাকার জন্য ৮২০ কোটি টাকা অনুমোদন হয়েছে। কাজটি হলে পুরান বাজার ও নতুন বাজার এলাকা ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পাবে। কাজটির নকশা প্রণয়ন ও প্রাক্কলন প্রস্তুত চলমান। এর পরই দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ডিপিপি অনুযায়ী কাজটি মে মাসে শুরু হয়ে ২০২৭ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। স্থায়ী এ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে নতুনবাজার অংশের বড় স্টেশন এলাকাসহ তৎসংলগ্ন ১ হাজার ৭৩০ মিটার এবং পুরানবাজার এলাকার ১ হাজার ৬৩০ মিটার মেঘনা নদীর তীর।’










