সাতক্ষীরার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গত ২০২১-২২ অর্থবছরে কর আদায় হয়েছে ৫৯ কোটি টাকা। তবে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা আদায় করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিবন্ধিত করদাতার একটি বড় অংশ স্বেচ্ছায় কর দিতে আগ্রহী না। জেলার মোট করদাতাদের মধ্যে অন্তত ৬০ শতাংশ রির্টান দাখিল করে না। যে কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।

সাতক্ষীরার উত্তর কাটিয়াস্থ উপ-কর কমিশনার ১৩ সার্কেল কার্যালয় থেকে জানা গেছে, গত ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত উপ কর কমিশনার ১৩ সার্কেল সাতক্ষীরার জন্য কর আদায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৬১ কোটি ৬ লাখ টাকা। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে কর আদায় হয় ৫৯ কোটি টাকা। ফলে ২ কোটি ৬ লাখ টাকার ঘাটতি হয়েছে। 

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৬ কোটি টাকার উপরে বাড়িয়ে ৬৭ কোটি ১৮ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে গত চার মাসে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে ১৭ কোটি। এর বিপরিতে গত ৪ মাসে কর আদায় হয়েছে ৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা। ফলে গেল চার মাসে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে।

অন্যদিকে উপ-কর কমিশনার ১৩ সার্কেল সাতক্ষীরার হিসাব অনুযায়ী, জেলার মোট নিবন্ধিত কর দাতার (টিআইএন) সংখ্যা ৪০ হাজারের অধিক। তার মধ্যে রির্টান দাখিল হয় সর্বোচ্চ ১৫ হাজার। ফলে ২৫ হাজারের মতো করদাতা রির্টান দাখিল করে না।

সাতক্ষীরা উপ-কর কমিশনার মো. আবুল কালাম জানান, সময়মতো কর আদায়ে সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গত অর্থবছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও আশা করা হচ্ছে চলতি অর্থবছরের লক্ষ্য অর্জন হবে। তাছাড়া আরো কিছু সমস্যাও রয়েছে যেমন দাফতরিক জনবল সংকট। জনবল সংকটের কারনে তাগিদ দেয়া বা অভিযান পরিচালনা করা মুশকিল হয়ে পড়ে। এছাড়াও জেলার কোটিপতিদের একটি তালিকা করা হবে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারকে স্বেচ্ছায় কর প্রদান করা হলো একজন সচেতন নাগরিকের কর্তব্য। আপনার আমার সকলের ট্যাক্সের টাকায় রাষ্ট্রের উন্নয়ন হয়। সময়মতো আয়করসহ অন্যান্য কর পরিশোধ করতে আরো সচেতন হতে হবে সমাজের সকল মানুষকে।