জয়পুরহাটের পুরানপৈল রেলগেটে ট্রেনের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো তিনজন। গতকাল সকাল ৭টার দিকে জয়পুরহাট সদর উপজেলার পুরানপৈল রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে ১১ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন জয়পুরহাট সদর উপজেলার দোগাছীর শরীফুল ইসলামের ছেলে আব্দুল লতিফ (৩৫), হিচমী দক্ষিণপাড়ার মানিকের ছেলে রমজান আলী (৪০) ও শহরের চিত্রাপাড়া এলাকার নিশি মন্ডলের ছেলে রেজাউল করিম রেজা, পাঁচবিবি উপজেলার আটুল গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে সরওয়ার হোসেন বাবু (৪০) ও আরিফুর রহমান (২০), আটাপাড়া এলাকার মৃত মোশারফ হোসেনের ছেলে সোনালী ব্যাংক অফিসার মনজুরুল নাছিম (২৮), আক্কেলপুর উপজেলার চকবিলা গ্রামের দুদু কাজীর ছেলে সাজু মিয়া (৩০), ক্ষেতলাল উপজেলার ইটাখোলা গ্রামের মোংলার ছেলে সুমন, নওগাঁর রানীনগরের বিজয়কান্দির গোরা মিয়ার ছেলে বাবুল (৫৫), পাঁচবিবি উপজেলার সিরাজের ছেলে জিয়া (২৫) ও টাঙ্গাইল জেলার ভুয়াপুর উপজেলার মাটিকাটা গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে জুলহাস (৩০)।
জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ সালাম কবির জানান, পুরানপৈল রেলক্রসিংয়ের গেটম্যান ঘুমিয়ে থাকায় রেলগেট খোলা ছিল। এ সময় বাস রেললাইনে উঠলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ১২ জনের মধ্যে ঘটনাস্থলেই ১০ জন মারা যান। বাকি দুজন হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান।
জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক শরীফুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেয়া হয়েছে।
পৌর মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক জানান, পৌরসভার পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আরো ১০ হাজার টাকা ও আহতদের চিকিৎসার সুব্যবস্থা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পার্বতীপুর থেকে ছেড়ে আসা উত্তরা এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাজশাহী যাচ্ছিল। সকাল ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে জয়পুরহাট সদর উপজেলা পুরানপৈল রেলক্রসিংয়ে গেট খোলা থাকায় হিলিগামী একটি যাত্রীবাহী বাস রেলক্রসিং অতিক্রম করছিল। এ সময় রাজশাহীগামী উত্তরা এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে ওই বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১০ জন মারা যান। দুর্ঘটনার পর থেকেই ওই রুটে রেল যোগাযোগ দীর্ঘ ৭ ঘণ্টা বন্ধ ছিল। এ সময় ঢাকা-রাজশাহী-খুলনাগামী ট্রেনযাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
জয়পুরহাট রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার আব্দুল হামিদ জানান, নয়ন ও রহমান নামে দুজন পুরানপৈল রেলক্রসিংয়ের গেটম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। ঘটনার পর থেকে তারা দুজনই পলাতক।
জয়পুরহাট পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ সালাম কবির জানান, এ ঘটনায় বাংলাদেশ রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসন পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিনকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া জেলা প্রশাসনের কমিটিতে প্রধান করা হয়েছে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজা হাসানকে। রেলওয়ের গঠিত কমিটিকে চার ও জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।










