পাঁচ বছর আগে সেতু নির্মিত হলেও তার দুই পাশে নেই কোনো সংযোগ সড়ক। এতে দুর্ভোগের শিকার বগুড়ার ধুনট ও সারিয়াকান্দি উপজেলার ১২ গ্রামের মানুষ। এর ফলে নির্মিত সেতুর কোনো সুফল পাচ্ছে না স্থানীয় জনগণ। এলাকাবাসীর নির্মিত বাঁশের সাঁকোই এখন সংযোগ সড়কের বিকল্প হিসেবে কাজে আসছে।

জানা যায়, ধুনট উপজেলার চিকাশি ইউনিয়নের জোড়শিমুল ও সারিয়াকান্দি উপজেলার বিবিরপাড়া গ্রামের মাঝামাঝি অবস্থিত চুলকানি বিল। এলাকার অধিকাংশ মানুষই কৃষিনির্ভর। কড়িতলা, চন্দনবাইশা, ঘুঘুমারি,

বিবিরপাড়াসহ দুই উপজেলার ১২ গ্রামের মানুষ এ বিলের মধ্যে থাকা জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে। বর্ষাকালে বিলের নিচু এলাকা ডুবে যায়। বিলে যাতায়াতের ভালো ব্যবস্থা নেই। এ কারণে কৃষকরা কৃষিকাজে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারছেন না। ফলে জমিতে ফসল উৎপাদনও দিন দিন কমে যাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষীরা। আর বিলের বুকে জনদুর্ভোগের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে সড়কবিহীন সেতু।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, এলজিইডির অর্থায়নে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে চুলকানি বিলের বুকে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয় ২ লাখ টাকা। সেতু নির্মিত হলেও তার দুই পাশে নেই কোনো সংযোগ সড়ক। ফলে বিলের বুকে জনদুর্ভোগের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে সেতুটি। স্থানীয়রা কাঁচা সড়ক তৈরি করে তা দিয়ে চলাচল করছে। এতে দুর্ভোগ না কমায় স্থানীয়রা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে গত জানুয়ারিতে সেতুর সঙ্গে সাঁকো জুড়ে দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করে। এখন সেটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় চাষীরা জানান, প্রতি বছর আমন ও বোরো চাষ হয়ে থাকে। বিলের পানিও কাজে লাগে। কিন্তু বিলের সঙ্গে বিশাল বড় মাঠ রয়েছে। সেখানে চাষীরা তাদের কৃষির বিভিন্ন ফসল ফলান। কিন্তু এ বিলের মধ্যে কোনো পাকা সড়ক নেই। কাঁচা সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। আবার সেতু নির্মাণ করা হলেও তার সংযোগ সড়ক নেই।

জোড়শিমুল গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, বিলের মধ্যে একটি সেতু থাকলেও এর কোনো সংযোগ সড়ক নেই। ফলে কৃষিপণ্য পরিবহনে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এলাকাবাসীর উদ্যোগে সংযোগ সড়ক সেতুর বিকল্প হিসেবে দুই পাশে বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে একটি কাঁচা সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।

ধুনট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই খোকন বলেন, এলাকাটি সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। এটি কৃষির জন্য একটি আদর্শ গ্রাম। এখানে কয়েকটি গ্রামের লোকজন চাষাবাদ করে থাকেন। পাকা সড়ক না থাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহনে চাষীদের নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। সংযোগ সড়ক নির্মাণে উপজেলা পরিষদ কাজ করে যাচ্ছে। সরকারি বরাদ্দ পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।