বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ৬১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। ১৯৬১ সালের ১৮ আগস্ট ময়মনসিংহ শহরে ১ হাজার ২৩০ একর জমিতে দেশের প্রথম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হ্যালিপ্যাডে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুত্ফুল হাসান। এ সময় হ্যালিপ্যাড থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে বিজয়-৭১ হয়ে বঙ্গবন্ধু চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণীর মর্যাদাদানে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা স্মরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চত্বরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বাকৃবি উপাচার্য। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে বহমান ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। এ সময় উপাচার্য বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিক কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে যথোপযুক্ত প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও কৃষকদের মাঝে তা সম্প্রসারণ করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। ফলে দেশ আজ ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা অর্জনে অসামান্য সাফল্য লাভ করতে পেরেছে। কৃষি ক্ষেত্রে দৃশ্যমান এ সাফল্যের কৃতিত্ব এ দেশের কৃষক ও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের, এটি আজ সর্বজন স্বীকৃতি।
তিনি আরো বলেন, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও সামগ্রিক চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেবর বহুগুণে বেড়েছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে এর মর্যাদা ও সুখ্যাতি। গত ছয় দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিথযশা শিক্ষক ও গবেষকবৃন্দ নিরলসভাবে শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞান বিতরণ করে চলেছেন। শান্তিপূর্ণ সুষ্ঠু পরিবেশে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের ধারায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ধারাবাহিকভাবে শীর্ষস্থানে হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ কৃষিবিজ্ঞানীদের অনেকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পুরস্কৃত হয়েছেন এবং একই সঙ্গে পেশাগত পূর্ণতায় বিকশিত হয়ে দেশের কৃষি-সংস্কৃতির পরিমণ্ডলকে করেছেন সমৃদ্ধ ও আলোকিত। পরে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।










