আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, ‘রাজশাহী নগরীর হাই-টেক পার্কের পশ্চিমে পদ্মা নদীর পাড়ে নৌবন্দর স্থাপন করতে যাচ্ছি। ভারতের মুর্শিদাবাদের ধূলিয়ান ও মায়া থেকে রাজশাহী পর্যন্ত নৌ-রুট চালু হলে ভারত থেকে পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করা যাবে। রাজশাহী থেকে বিভিন্ন পণ্য রফতানিও করা হবে।’ আগামী দিনে নৌবন্দরটি রাজশাহী বিভাগের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি আগামী তিন-ছয় মাসের মধ্যে নৌ-রুটটি প্রাথমিকভাবে চালু হওয়ার কথা জানান।

তৃতীয় মেয়াদে সিটি মেয়রের অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। গতকাল দুপুরে নগর ভবনের গ্রিন প্লাজায় এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ১০ জন নারী কাউন্সিলর ও ৩০ জন কাউন্সিলর অংশ নেন। পরে বিকালে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এবিএম শরীফ উদ্দিন মেয়রকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন।

খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘মানুষের ভালোবাসার সঠিক প্রতিদান আমি আগেও দিয়েছি, ভবিষ্যতেও দেব। এবার আমার নির্বাচনী স্লোগান ছিল “‍উন্নয়ন দৃশ্যমান, এবার হবে কর্মসংস্থান”। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারেও এটি উল্লেখ থাকবে। নির্বাচনে সারা দেশে রাজশাহী শহরকে শোকেসিং করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে শিল্পায়নের জন্য বিসিক শিল্পনগরী-২ নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য প্রায় ৩০০ প্লট বরাদ্দ দেয়া হবে।’ গতকাল সন্ধ্যায় ৩০টি প্লট বরাদ্দ দেয়ার কথা জানিয়ে তিনি রাজশাহীর উন্নয়ন চলমান রাখার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

স্মার্ট রাজশাহী গড়তে প্রকল্প শুরু হচ্ছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘আগামী ১৯ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্কে স্মার্ট কর্মসংস্থান মেলা হবে। সেখানে স্পটেই অনেক তরুণ-তরুণীর চাকরি হবে—এটি আমার প্রতিশ্রুতির সূচনামাত্র।’

গত ২১ জুন রাজশাহী সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন নৌকা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার ২৯০ ভোট পেয়ে তৃতীয়বার নির্বাচিত হন। গত ৩ জুলাই তাকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে ২০০৮-১৩ সালে প্রথম মেয়াদে এবং ২০১৮-২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।