বাগেরহাটের
কচুয়া বাজারটি প্রায় ১০ একর জমির
ওপর গড়ে উঠেছে। উপজেলা সদরের প্রধান এ বাজারে জমির
মালিক ও ব্যবসায়ী রয়েছেন
পাঁচ শতাধিক। তবে ব্যবসা সম্প্রসারণ বা ভবন নির্মাণের
জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধা পাচ্ছেন
না তারা। কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ছয় বছর ধরে
জমির খাজনা নেয়া বন্ধ রেখেছে ভূমি অফিস। খাজনা পরিশোধের প্রয়োজনীয় কাগজ না থাকায় জমি
বিক্রি ও জামানত রেখে
ঋণ নিতে পারছেন না তারা।
ব্যবসায়ী ও জমির মালিকদের অভিযোগ, আরএস, সিএস পর্চায় জমির মালিক হওয়া সত্ত্বেও ভূমি অফিস খাজনা নিচ্ছে না। খাজনা না নেয়ার কারণ জানতে ভূমি অফিস, এসিল্যান্ড অফিস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে বারবার গেলেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।
ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর শেখ বলেন, ‘রেকর্ডিও এবং দলিল বুনিয়াতে আমরা দীর্ঘদিন বসবাস করে আসছি। বাজারের মধ্যে নিজেদের জমির ওপর বসতবাড়ি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু আমাদের কাছ থেকে তহসিল অফিস খাজনা নিচ্ছে না। বাজারের ভেতর থেকে কতটুকু জমি পেরিফেরির মধ্যে নিয়েছে তাও আমরা সঠিকভাবে জানতে পারছি না। এ কারণে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি।’
আরিফুল ইসলাম ডলার বলেন, ‘আমরা সরকারকে নিয়মিত খাজনা পরিয়েশাধ করছি। কোনো কিছু না জানিয়ে হঠাৎ করে খাজনা নেয়া বন্ধ করে দেয়ায় বিপাকে পড়েছি। আমাদের মতো অন্য বাড়ির মালিক ও ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। বাজারে একাধিক বহুতল ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। অন্য কোথাও যাওয়ার জমিও নেই আমাদের। জমির খাজনা নেয়া বন্ধ থাকায় ঋণ নিতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।’
বাগেরহাট জেলা পরিষদের সদস্য মো. মনিরুজ্জামান ঝুমুর বলেন, ‘কচুয়া উপজেলা সদরের চর কচুয়া মৌজায় প্রায় ৭০ বছর ধরে যারা বসবাস করছেন, তারা ভূমি আইন অনুযায়ী কর পরিশোধ করে আসছিলেন। ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে খাজনা নিচ্ছে না তহসিল অফিস। বিষয়টি জানার জন্য তহসিল অফিসে গেলে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। পরে দেড় শতাধিক ব্যবসায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গেলে তিনি জানান, ওই মৌজার জমি পেরিফেরির আওতায় গিয়েছে। এ কারণে সমস্ত খাজনা নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে তহসিল অফিস।’
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. খালিদ হোসেন বলেন, ‘হাটবাজারের একটি পেরিফেরি করা হয়েছে। ম্যাপ অনুযায়ী কার কতটুকু অংশ পেরিফরির মধ্যে রয়েছে, সেটুকু নির্ধারণ করে সবাইকে জানিয়ে দেয়া হবে। দ্রুত বিষয়টি সমাধান করা হবে, যাতে ব্যবসায়ী এবং বসবাসকারীরা ক্ষতির মুখে না পড়েন।’










