ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ড্রেজারডুবির ঘটনার দুই দিনেও নিখোঁজ চার শ্রমিকের সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় মোট আট শ্রমিক নিখোঁজ ছিলেন। তাদের মধ্যে মঙ্গলবার রাতে একজন ও গতকাল সকালে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ চার শ্রমিকের অপেক্ষায় সাগরপাড়ে ছুটে গিয়ে আহাজারি করছেন স্বজনরা। স্থানীয়রাও উদ্ধারকাজ দেখতে ভিড় জমায়।
গতকাল সকালে উদ্ধার হওয়া তিন শ্রমিক হলেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার চর জৈনকাঠি গ্রামের আনিচ মোল্লার ছেলে ইমাম মোল্লা, আবদুল হক মোল্লার ছেলে মাহমুদ মোল্লা, সেকান্দার বারির ছেলে জাহিদ বারি। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ড্রেজারডুবির স্থান থেকে আল আমিন নামে এক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি একই এলাকার ফকির রহমানের ছেলে।
এখনো
নিখোঁজ চার শ্রমিক হলেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার চর জৈনকাঠি গ্রামের বাড়ির আবদুর রহমানের ছেলে তারেক মোল্লা, আনিচ মোল্লার আরেক ছেলে শাহীন মোল্লা, ইউসুফ হাওলাদারের ছেলে বসার হাওলাদার ও নুরু সর্দারের ছেলে আলম সর্দার।
ড্রেজারডুবির ঘটনায় বেঁচে ফেরা শ্রমিক মো. সালাম জানান, সোমবার রাতে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে তীব্র বাতাস ও ঢেউয়ে সৈকত-২ নামে তাদের ড্রেজারটি মিরসরাই উপকূলের সন্দ্বীপ চ্যানেলে ডুবে যায়। ড্রেজারটি সৈকত এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। ওই প্রতিষ্ঠানকে মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে নিয়োগ দেয় বেপজা। ড্রেজারটিতে থাকা নয় শ্রমিকের মধ্যে তিনি কিনারে আসতে পারলেও বাকি আট শ্রমিক আটকা পড়েন।
শ্রমিকদের মরদেহ নিতে সাগরপাড়ে ছুটে আসেন তাদের স্বজন জামাল উদ্দিন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘শুরু
থেকে উদ্ধারকাজে অবহেলা লক্ষ করা গিয়েছে। প্রশাসন আন্তরিক থাকলে এতক্ষণে সবার মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হতো। আর কত ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে জানি না।’
মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা ইমাম হোসেন পাটোয়ারি জানান, মঙ্গলবার রাতে একজনের মরদেহ উদ্ধারের পর রাত ১২টায় উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়। গতকাল সকাল ৯টা থেকে পুনরায় উদ্ধার শুরু হয়।










