এখন পর্যন্ত কেউ শনাক্ত না হলেও নভেল করোনাভাইরাস
সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকিতে রয়েছে প্রতিবেশী ভারত। মূলত ভাইরাসটির উৎসস্থল চীনের
সীমান্তবর্তী হওয়ার কারণে কভিড-১৯-এর বড়
ঝুঁকিতে রয়েছে দেশটি। ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি
পণ্য আমদানি-রফতানি হয় স্থলবন্দর দিয়ে। এছাড়া স্থলবন্দর
ব্যবহার করে দুই দেশে আসা-যাওয়া করছেন প্রচুর দেশী-বিদেশী। ফলে দেশটিতে কোনোভাবে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে স্থলবন্দরগুলোর
মাধ্যমে তা বাংলাদেশে ছড়ানোরও আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দেশের
স্থলবন্দরগুলোয় থার্মাল স্ক্যানারের ব্যবহারও শুরু হয়েছে। তবে দেশের বড়
স্থলবন্দরগুলোর পাঁচটিতে এখনো এ স্ক্যানার স্থাপন করা হয়নি। ফলে থার্মাল স্ক্যান
ছাড়াই এ পাঁচ স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে যাতায়াত করছেন দেশী-বিদেশীরা।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে অত্যন্ত গুরুত্ববহ
দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর। এখানে এখনো স্থাপন করা হয়নি কোনো থার্মাল স্ক্যানার।
ফলে স্থলবন্দরটি দিয়ে দুই দেশের মধ্যে যাত্রীদের আনাগোনা চলছে থার্মাল স্ক্যান
ছাড়াই। একই অবস্থা চুয়াডাঙ্গার দর্শনা, কুমিল্লার বিজিবি বাজার, আখাউড়া ও
বেনাপোল রেলওয়ে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের।
সম্প্রতি এক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনেও বিষয়টি
নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের সবগুলো
স্থলবন্দরে থার্মাল স্ক্যানার স্থাপনের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
পুলিশের বিশেষ শাখার পক্ষ থেকে গত ২৬ জানুয়ারি দেশের বিভিন্ন ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে আগতদের মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শনাক্তের উদ্দেশ্যে থার্মাল স্ক্যানার মেশিন স্থাপন এবং মেডিকেল টিম মোতায়েনের জন্য বেশ কয়েকটি সংস্থার কর্মকর্তাদের মৌখিকভাবে অনুরোধ করা হয়। এর দুদিনের মাথায় ভোমরা ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে থার্মাল স্ক্যানার মেশিন দিয়ে যাত্রীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়। এরপর ৩০ জানুয়ারি দেশের স্থল ও নৌবন্দরগুলোর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে আগতদের পরীক্ষা করার জন্য থার্মাল স্ক্যানার মেশিন স্থাপন ও মেডিকেল টিম মোতায়েনের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চিঠিও পাঠানো হয়।
বর্তমানে বেনাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এবং মোংলা
সি পোর্ট ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে শর্ট থার্মাল স্ক্যানার ও নন-কন্ট্রাক্ট থার্মোমিটার দিয়ে যাত্রীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। যদিও দর্শনা, হিলি,
কুমিল্লা বিজিবি বাজার, আখাউড়া ও বেনাপোল রেলওয়ে
ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে থার্মাল স্ক্যানার স্থাপন করা হয়নি এখনো। এসব ইমিগ্রেশন
চেকপোস্টে কভিড-১৯-এ আক্রান্ত শনাক্তের জন্য স্থানীয় সিভিল
সার্জন নিয়োজিত ডাক্তার দিয়ে আগত দেশী-বিদেশীদের ম্যানুয়ালি পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা ও সেবা বিভাগের সচিব মো. শহিদুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, পোর্টের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা দেখভাল করলেও স্বাস্থ্য পরীক্ষার
বিষয়গুলো দেখে থাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
কোন কোন পোর্টে থার্মাল স্ক্যানার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, এ বিষয়ে তারাই সিদ্ধান্ত দেবেন।










