বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের প্রতিযোগিতা চলছে। যদিও সরকারি তথ্যমতে, জেলাজুড়ে কোনো বালু মহাল নেই। অবৈধ বালি উত্তোলনের ফলে নাব্যতা হারাচ্ছে পাহাড়ি ছড়া-খাল। ধ্বংস হচ্ছে জলপ্লাবিত এলাকার তলদেশ।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর ধরে জেলার লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের সালাম মেম্বারপাড়া ও ২ নং ওয়ার্ডের কয়েকটি স্থানে অবৈধ বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে ইউনিয়নের হাসনাভিটা এলাকায় বান্দরবান-চট্টগ্রাম জেলার সীমানা সরই খালের ওপর নির্মিত ব্রিজটি ভেঙে গেছে।

এছাড়া লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মালুম্মা এলাকায় বগাইছড়ি খাল ও ২ নং ওয়ার্ডের হারগাজা এলাকায় হারগাজা খাল, বান্দরবান সদর উপজেলার রাজবিলা ইউনিয়নের উদালবনিয়া বৌদ্ধবিহার এলাকায় শিলক খাল, সুয়ালক ইউনিয়নের কদুখোলাতে এবং আলীকদম উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মংশৈপ্রু পাড়া এলাকায় তৈন খাল ও নোয়াপাড়া ইউনিয়নে পুরনো নোয়াপাড়া ঘাটে মাতামুহুরী নদীতে নির্মিত ব্রিজের প্রায় ১০০ গজ নিচ থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, সরই ইউনিয়নের সালাম মেম্বারপাড়া পশ্চিম দিকে বান্দরবান-সুয়ালক-লামা সড়কঘেঁষা আনুমানিক এক কানি (৪০ শতক) জায়গাজুড়ে প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার বালি মজুদ করে রাখা হয়েছে। স্তূপটির এক কোনায় তিনজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। জানতে চাইলে নাম না প্রকাশের শর্তে একজন বলেন, সকালে লোহাগাড়া থেকে এসে ইদ্রিছ কোম্পানির বালি তোলার মেশিন ঠিক করছি। কাজ হয়ে গেলে বাড়ি ফিরে যাব। পাড়ার পূর্ব দিকেও সরই খাল হতে মেশিন দিয়ে বালি তোলা হচ্ছে। খালের দুই পাড়ের নানা স্থানে ভাঙন দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, তিন বছর ধরে ৩ নং ওয়ার্ডের সালাম মেম্বারপাড়ার পূর্ব দিকে সরই খালের বালি উত্তোলন করছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলমের জামাতা ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সেলিমের সিন্ডিকেট। এ পাড়ার পশ্চিম দিকে এবং শহর মুল্লুক এলাকা থেকে উত্তোলন করছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পুঁটিবিলার বাসিন্দা ও সরই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ইদ্রিস কোম্পানি সিন্ডিকেট।

অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের বিষয়টি অস্বীকার করে ফোন কেটে দেন যুবলীগ নেতা সেলিম।

সরই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ইদ্রিস বলেন, গত বছর ব্রিজ ভেঙে গেছে, তাই বালি বিক্রি বন্ধ রয়েছে। তবে বালি উত্তোলন চলছে। শুষ্ক মৌসুমে বিক্রি করা হবে। তিন টনের এক ট্রাক বালি ৭০০ টাকায় বিক্রি করা হয়।

সরকারি অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ম্যানেজ করার পর কীসের অনুমোদন! খালের বালি তুলতে অনুমোদন লাগে নাকি? তিনি বলেন, কয়েকটা স্থান থেকে বালি উত্তোলন করছে সেলিম, ইউনুছ ও নাসির। আর শহর মুল্লুক এলাকায় উত্তোলন করছে লোহাগাড়ার নুনু।

পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবানের সিনিয়র কেমিস্ট সামিউল আলম কোরসি বণিক বার্তাকে বলেন, অবৈধ বালি উত্তোলনে বন্ধ করতে গত সপ্তাহে লামা উপেজলার দুটি স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধ করতে ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে শিগগিরই টানা অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এসব বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. শফিউল আলম বলেন, বান্দরবানে কোনো বালু মহাল নেই। কোথাও বালি উত্তোলন করা হলে তা অবৈধ। কেউ যাতে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন না করতে পারে, এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া আছে। এরপর থেকে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।