সভায় আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) আসন্ন নিরাপত্তা নিরীক্ষাকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে গতকাল অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। কমিটির সহসভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

আফরোজা খানম বলেন, ‘‌জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির ১৩তম সভার সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। শিগগিরই আইসিএওর নিরাপত্তা নিরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।’ এ নিরীক্ষার সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তি জড়িত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‌আইসিএওর সম্ভাব্য পর্যবেক্ষণের বিষয়গুলোয় পূর্ণাঙ্গ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘‌বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন ঠেকাতে অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে।’ প্রায় তিন বছর পর অনুষ্ঠিত এ সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘‌নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট স্ক্যানার ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত মজুদ রাখতে হবে।’ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যত্যয়ের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশও দেন তিনি।

সভায় সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় জোরদার, জাতীয় বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচল নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, আইসিএওর নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ, বিমানবন্দরে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি সংযোজন, বিদ্যমান নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশ পথের নিরাপত্তা আরো জোরদার, আন্ডার ভেহিকল স্ক্যানিং সিস্টেমের (ইউভিএসএস) কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং দেশের সব বেসামরিক বিমানবন্দরে কনটিনজেন্সি ও ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কার্যক্রম আরো কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং সংস্থাগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অনিয়ন্ত্রিত লোকসমাগম, ভিক্ষুকের উপদ্রব এবং অবৈধ লাগেজ র‍্যাপিং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে বেবিচক, এপিবিএন, পুলিশ, আনসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেয়া হয়। যাত্রীসেবা, শৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশও করা হয়।