সিলেটের গোয়াইনঘাটে জাফলংয়ের পিয়াইন নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করছে একটি চক্র। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে নদীতে নির্মিত জাফলং সেতু। প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৬০ মিটার এ সেতু উদ্বোধন করা হয় গত বছর। বালি উত্তোলনের ফলে এরই মধ্যে সেতুটির পিলার ঘিরে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙন দেখা দিয়েছে পার্শ্ববর্তী জাফলং চা বাগান এলাকায়।
ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় জাফলংকে ২০১২ সালে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়। ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হয় এ-সংক্রান্ত গেজেট। এছাড়া ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি জাফলংকে ভূতাত্ত্বিক ঐহিত্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয় জাফলংয়ের ২২ দশমিক ৫৯ একর জায়গা।
তবে ইসিএ ও ভূতাত্ত্বিক ঐতিহ্য ঘোষণা করেও রক্ষা করা যাচ্ছে না সিলেটের অন্যতম পর্যটন এলাকা জাফলং। ইসিএ ঘোষিত এলাকায় পাথর ও বালি উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও যন্ত্র ব্যবহার করে অবাধে পাথর ও বালি উত্তোলন চলছেই। সম্প্রতি জাফলং সেতুর পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলিত বালি পরিবহনের জন্য রাস্তা তৈরি করা হয়েছে জাফলং চা বাগানের ভেতর দিয়ে।
স্থানীয়রা জানায়, জাফলং মুমিনপুর গ্রামের জুলহাস মিয়া ও জাফলং চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি নিরঞ্জন গোয়ালা জাফলং সেতুর গোড়া থেকে পেলুডার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করছেন। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি। অথচ গত পহেলা বৈশাখে সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ। এ সময় তিনি সেতুর আশপাশে বালি ও পাথর উত্তোলন থেকে বিরত থাকার নির্দেশও দেন। কিন্তু স্থানীয় বালি ও পাথর ব্যবসায়ীরা এ নির্দেশনার তোয়াক্কা করছেন না।
সরেজমিন দেখা যায়, আদালতের মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত পেলুডার মেশিন দিয়ে নদী থেকে বালি মজুদ করা হচ্ছে। বালি উত্তোলনের ফলে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে জাফলং সেতুর পিলারের গোড়ায়। ভাঙন দেখা দিয়েছে নদী তীরবর্তী জাফলং চা বাগানে। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন বলেন, প্রতি রাতেই নদী থেকে মেশিন দিয়ে বালি তোলা হচ্ছে। উত্তোলিত বালি রাতের মধ্যেই ট্রাক্টর দিয়ে সরিয়ে নেয়া হয়। এতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তবে অবৈধভাবে










