মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের আজিমনগর ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয়ের চারতলা ভবনটি পদ্মায় বিলীন হয়ে গিয়েছে। গতকাল বেলা ১টার দিকে বিদ্যালয় ভবনটি পদ্মার পেটে চলে গেছে বলে জানান, প্রধান শিক্ষক আওলাদ হোসেন চৌধুরী।
প্রধান শিক্ষক বলেন, পদ্মায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন শুরু হয়েছে। কয়েক দিনের ভাঙনে ভবনের সামনের অংশের মাটি সরে যায়। গতকাল দুপুরে আকস্মিকভাবে ভবনটি নদীতে পড়ে যায়। তিনি আরো বলেন, গত বছর বর্ষায় বিদ্যালয় ভবনটি ভাঙনের হুমকিতে থাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলে রক্ষার চেষ্টা করে। ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে পাঠদান করা হচ্ছিল।
হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলের তিনটি ইউনিয়নের একমাত্র এমপিওভুক্ত বিদ্যালয় আজিমনগর ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয়। সাড়ে চার শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে এ বিদ্যালয়ে। দেড় বছর আগে থেকে বিদ্যালয়টির তিন ও চারতলার কাজ বন্ধ। যদিও ভবনটির চারতলা পর্যন্ত ছাদ দেয়া ছিল।
এদিকে বিদ্যালয়ের কাছাকাছি হাতিঘাটা এলাকায় পদ্মার ভাঙনে এক সপ্তাহে পূর্ব পাড়ার আশ্রয় প্রকল্পের ১০টি ঘরসহ পাঁচটি বাড়িও বিলীন হয় বলে জানা গিয়েছে।
আজিমনগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. বিল্লাল হোসেন জানান, বিদ্যালয় ভবনটি গতকাল দুপুরে হঠাৎ পদ্মায় বিলীন হয়ে গিয়েছে। আপাতত হাটিঘাটা এলাকায় বিদ্যালয়ের ক্লাস নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বসন্তপুর এলাকায় স্থায়ীভাবে বিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে।
হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয় ভবনটি গতকাল দুপুরে পদ্মায় বিলীন হয়ে গিয়েছে। শিক্ষা অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সুবিধামতো জায়গায় নতুন বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইন উদ্দিন বলেন, ভাঙন রোধে গত বছর কিছু কাজ করা হয়েছিল। কয়েকদিন আগেও ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। বিদ্যালয়টি ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকায় আমরা দেড় বছর আগেই ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ করতে উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে রিপোর্ট দিয়েছিলাম। স্কুল ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধও ছিল।
উল্লেখ্য, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ৬৬ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয়ে চারতলা ফাউন্ডেশনে একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১ কোটি ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বাকি তিনতলা নির্মাণের অনুমোদন পাওয়ার পর বিদ্যালয় ভবনটির চারতলার কাজ শেষের দিকে ছিল। এর পরই দেখা দেয়া পদ্মার ভাঙন। এতে ভবনের বাকি কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়টি সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী ভবনটি ধসে পড়ার আগেই বিদ্যালয়ের আসবাব সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
মানিকগঞ্জ জেলা সহকারী শিক্ষা প্রকৌশলী মো. হাকিমুল হাসান সিদ্দিকী সাংবাদিকদের জানান, গত ১৯ জুন পরিদর্শন শেষে বিদ্যালয় ভবনটি নিলামের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কিন্তু তার আগেই ভবনটি পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়।










