এমনকি তিন বিভাগেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিজস্ব ভবনও নেই। এ অবস্থায় বিভাগীয় কার্যালয় ও রাসায়নিক পরীক্ষাগার নির্মাণে উদ্যোগ নিয়েছে অধিদপ্তর। তিন বিভাগে প্রস্তাব করা হয়েছে ১০ তলা করে ভবন নির্মাণের। তবে এসব ভবন নির্মাণে প্রতি বর্গফুটে ৫ হাজার ৩১৬ টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। যদিও প্রতি বর্গফুটে সরকারি ব্যয়সীমা ২ হাজার ৫০০ টাকার কম। এ হিসাবে সরকারি ভবন নির্মাণে নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার তুলনায় এ ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, যৌক্তিকতা ছাড়া নির্মাণ ব্যয় বাড়ানো হলে সরকারি অর্থ অপচয় এবং অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী দেশের প্রতিটি বিভাগেই রাসায়নিক পরীক্ষাগার থাকার কথা রয়েছে। তবে বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট—এ পাঁচ বিভাগে রাসায়নিক পরীক্ষাগার রয়েছে। খুলনা, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে এখনো কোনো রাসায়নিক পরীক্ষাগার স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। মূলত এসব বিভাগে অধিদপ্তরের নিজস্ব ভবন না থাকায় পরীক্ষাগার স্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়নি। ফলে এসব অঞ্চলে নিত্যনতুন মাদকের বিস্তার ঘটলেও সেগুলো দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। আঞ্চলিক পর্যায়ে জব্দ করা মাদকের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকার রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠাতে হয়। এতে নমুনা পরিবহনসহ পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগে বেশি। বিশেষ করে কোনো মাদক নতুন ধরনের হলে তার রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করতে ঢাকাকেন্দ্রিক পরীক্ষার ওপর নির্ভর করতে হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন করে তিন বিভাগের ভবন নির্মানের প্রাক্কলিত ব্যয়সহ প্রস্তাবনা এসেছে। সামগ্রিক বিবেচনায় খুলনায় ৯১ দশমিক ৪৬ শতাংশ, রংপুরে ৬৩ শতাংশ এবং ময়মনসিংহে ৪৬ শতাংশ নিজস্ব জমিতে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অফিস ভবন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেখানে একই ভবনে বিভাগীয় কার্যালয়, জেলা কার্যালয়, বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয় এবং বিভাগীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগার এবং ডোপটেস্টিং ল্যাব স্থাপন করা হবে।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ-সংক্রান্ত এক সভায় জানানো হয়, তিনটি বিভাগীয় শহরে ১০ তলা ভিতে সাততলা বিশিষ্ট বিভাগীয় কার্যালয় নির্মাণের প্রস্তাব এসেছে। তবে প্রস্তাবিত বিভাগীয় কার্যালয় ভবনের প্রাক্কলিত ব্যয় পর্যালোচনায় দেখা যায় শুধু ভবন নির্মাণে প্রতি বর্গফুটে ৫ হাজার ৩১৬ টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা অত্যাধিক বলে সভায় অভিমত ব্যক্ত করা হয়। একইভাবে একতলা ভিতে একতলা পাম্প হাউজ-কাম ইলেক্ট্রিক্যাল সাব-স্টেশন নির্মাণে প্রতি বর্গফুটে ৫ হাজার ২৩ টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা পুনঃপর্যালোচনা করে যৌক্তিকীকরণ আবশ্যক বলে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় পরিকল্পনা অধিশাখার যুগ্ম সচিব ‘সি’ গ্রেডের লিফট বাদ দিয়ে ‘এ’ গ্রেডের লিফটের বিষয়ে মতামত প্রদান করা হয়। সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন নির্দেশিকা ২০২২ অনুসরণ করতে বলা হয়।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ২০২২ সালের দর তফসিল অনুযায়ী, সরকারি বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রড, সিমেন্টসহ অন্যান্য খাতের ব্যয় সীমা নির্ধারিত রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে শুধু ভবন অবকাঠামো নির্মাণে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে সর্বোচ্চ ২ হাজর ৪৩৫ টাকা ব্যায়ের সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম ও সিলেটে ২ হাজার ৩৮১ টাকা। খুলনা, বরিশাল ও গোপালগঞ্জে ২ হাজার ২০৫ টাকা। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে ২ হাজার ২০৫ টাকা সর্বোচ্চ ব্যয় সীমা নির্ধারিত রয়েছে। ফলে সরকারি ভবন নির্মাণে প্রতি বর্গফুটে প্রস্তাবিত ব্যয় নির্ধারিত ব্যয়সীমার দ্বিগুণেরও বেশি।

সরকারি প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব মূলত গণপূর্ত অধিদপ্তরের। সরকারি ভবন নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সংস্থাটি নির্মাণ ব্যয়ের হার নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট কাজের মূল্য তালিকা প্রস্তুত করে থাকে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ভবন নির্মাণের সাধারণ কাজের জন্য প্রতি বর্গফুটে ৫ হাজার ৩১৬ টাকা ব্যয় প্রাক্কলন অস্বাভাবিকভাবে বেশি। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শুধু ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটে ৫ হাজার ৩১৬ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় প্রস্তাব করাটা অনেক বেশি। তবে এর সঙ্গে লিফট ও আনুষঙ্গিক বিষয়াদি থাকতে পারে। ভবনে রাসায়নিক ল্যাবরেটরি থাকলে এ ধরনের বিশেষায়িত স্থাপনার কারণে ব্যয় কিছুটা বাড়তে পারে। তারপরও আমরা পুরো বিষয়টি দুই দফা যাচাই করে দেখছি। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’