ঈদের ছুটিতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নসিমন, থ্রি-হুইলার ও ভটভটিসহ তিন চাকার যানবাহন। সড়কের আয়তন না বাড়ায় প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। চলতি মাসের ২৪ দিনে মহাসড়কটিতে অন্তত ১৭টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন সাতজন। আর আহত হয়েছে অর্ধশত। এ অবস্থায় নিরাপদ ঈদযাত্রা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যাত্রী ও পরিবহন চালকরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা-বরিশাল নৌপথে লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এসব লঞ্চ গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে চলাচল শুরু করেছে। তবে সড়কপথে বাসের টিকিট সংকট দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে বাড়ি ফেরার জন্য অধিকাংশ বাসের অগ্রিম টিকিট শেষ হয়ে গেছে।

সাকুরা পরিবহনের চালক সুবহান ইসলাম জালাল বলেন, ‘ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে অটোরিকশার কারণে গাড়ি চালানো যায় না। যেখানে-সেখানে ব্রেক করতে হয়। এতে আমাদের গাড়ি চালাতে সমস্যা হয়।’

ফিটনেসবিহীন বাস রঙ করে নতুনভাবে নামানো হচ্ছে মহাসড়কে। ঈদযাত্রার নিরাপত্তায় এগুলো নিয়ন্ত্রণের দাবি বরিশাল বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেনের।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো ফিটনেসবিহীন বাস চলাচল করতে দেয়া হবে না। ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের বরগুনার আমতলীর ২৬ কিলোমিটার অংশে গত দুই বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ২৫ জনের বেশি। পদ্মা সেতু চালুর পর এ সড়কে যানবাহন চলাচল বাড়লেও প্রশস্ততা বাড়েনি।’

পুলিশ ও পরিবহন চালকরা বলছেন, মহাসড়কে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ থ্রি-হুইলার। একই অবস্থা পিরোজপুরেও। বেকুটিয়া সেতুর কারণে যানবাহন চলাচল বাড়লেও নসিমন ও থ্রি-হুইলারের কারণে সড়ক সরু হয়ে গেছে। প্রয়োজনের তুলনায় রাস্তা না থাকায় দুর্ঘটনা ঘটছে। পটুয়াখালী-কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচল করছে ব্যাটারিচালিত মাহিন্দ্র, সিএনজি অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ তিন চাকার যানবাহন। আইন ও নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে পরিবহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মহাসড়ক চলাচল করছে এসব যান। তিন চাকার ব্যাটারিচালিত যান মহাসড়কে চলার কারণে প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলাচলে সমস্যার কথা জানিয়ে একাধিক পরিবহনের চালক বলছেন, মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন চলাচল করায় বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে তাদের। এসব যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে না পারলে ভোগান্তি কমবে না, সময়ও বেশি লাগবে।

মহাসড়কে তির চাকার যানবাহন চলাচল বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে। তবে সেটি মানছেন না চালকরা। তাদের কারণে প্রতিদিন মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানান বরিশাল জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ইমাম হোসেন নাসির।

পটুয়াখালী পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, ‘মহাসড়কে আটোবাইকসহ তিন চাকার কোনো গাড়ি চলাচলের অনুমতি নেই। কিন্তু সাধারণ জনগণের কথা বিবেচনা করে কিছু আটোবাইক চলাচল করছে। ঈদ সামনে রেখে সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েই চলেছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং তাদের সতর্ক করছি।’