লালমনিরহাটের আদিতমারী, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রামসহ তিনটি উপজেলার চারটি সীমান্ত দিয়ে ৩৪ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে।
গতকাল দিবাগত গভীর রাতের এসব ঘটনায় স্থানীয় বাংলাদেশীদের সহযোগিতায় অনুপ্রবেশ প্রতিহত করে বিজিবি। বর্তমানে সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।
আজ সকালে ওই নাগরিকদের সীমান্তের শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে লাগেজসহ বসে থাকতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে নারী-শিশুও রয়েছে।
লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়, আদিতমারী উপজেলার দীঘলটারী ও দূর্গাপুর সীমান্তের ৯২৫ ও ৯২৭ নং মেইন পিলার সীমান্তে ১২ জনের উপস্থিতি টের পেয়ে তাৎক্ষণিক মাইকের মাধ্যমে সতর্ক করে বিজিবির টহলদল। এর পর তাদের ভারতীয় অংশে বিচরণ করতে দেখা যায়। এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে ভারতীয় রানীনগর-৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের আহবান জানানো হয়েছে। বিএসএফের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি।
এদিকে গত রাতে হাতীবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ নারী-শিশুসহ ১২ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। আজ ভোরে লালমনিরহাটের তিস্তা-৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বড়খাতা কোম্পানীর টহলদল তাদের অনুপ্রবেশ প্রতিহত করেছে। বর্তমানে বিজিবি-বিএসএফ ওই সীমান্তে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। অনুপ্রবেশের চেষ্টায় থাকা ব্যক্তিরা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
এছাড়া পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ঝাঁলাঙ্গী (পকেট) সীমান্ত পথে নারী-শিশুসহ ১০ জনকে বিএসএফ বাংলাদেশে ঠিলে পাঠানোর চেষ্টা করে। তাদের অনুপ্রবেশে বাধা দেয় লালমনিরহাটের তিস্তা-৬১ ব্যাটালিয়নের বিজিবি টহলদল। বর্তমানে তারা খোলা আকাশের নিচে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছে।
হাতীবান্ধা ও পাটগ্রামে ২২ জনের অনুপ্রবেশের চেষ্টার সত্যতা নিশ্চিত করেন লালমনিরহাটের তিস্তা-২ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মেজর তানভীর আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে ব্যস্ত আছি। পরে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।’
এদিকে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ১২ জনের অনুপ্রবেশের চেষ্টার কথা নিশ্চিত করেছে।










