বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে বিশ্বমানের অ্যাক্রিডিটেশন নিশ্চিতের দাবি করেছেন দেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর উদ্যোক্তারা। রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর)  রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন অ্যাক্রিডিটেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের উদ্বোধনী সেমিনারে তারা এ দাবি জানান।

সেমিনারে ২০১০ সাল থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ মেডিকেল এডুকেশন (ডব্লিউএফএমই) এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিদেশী মেডিকেল গ্রাজুয়েটদের জন্য শিক্ষা কমিশন (ইসিএফএমজি) উত্থাপিত অ্যাক্রিডিটেশন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সবাইকে জানানো হয়। পাশাপাশি এর সঙ্গে সম্পর্কিত মানদন্ডগুলো ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অ্যাক্রেডিটেশন অবস্থান সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়।

দেশের বেসরকারি চিকিৎসা শিক্ষালয়গুলোর উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ) এ সম্মেলনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এসোসিয়েশন ফর মেডিকেল এডুকেশন, বাংলাদেশের সভাপতি প্রফেসর ডা. মো. হুমায়ূন কবির তালুকদার। বিপিএমসিএর মহাসচিব প্রফেসর ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন আগত অতিথিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা থেকে চিকিৎসা শিক্ষা খাতের প্রথিতযশা প্রায় ৪৫০ ব্যক্তিত্ব অংশ নেন। ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর রিকার্ডো লিওন বোর্ডেজ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর রিকার্ডো বলেন, প্রতিটি দেশ যেন বেসিক চিকিৎসা শিক্ষার অ্যাক্রিডিটেশন নিশ্চিত করে সেদিকে নজর রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমসিএ) সভাপতি এম এ মুবিন খান বলেন, আমরা বাংলাদেশে মানসম্মত চিকিৎসা শিক্ষা নিশ্চিতে কাজ করছি। বিপিএমসিএ দেশের চিকিৎসা শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করছে। আমরা এখানে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং যেকোনো দুর্যোগ এবং প্রয়োজনে আমরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।

তিনি বলেন, অ্যাসোসিয়েশনের লক্ষ্য হল বিশ্বমানের চিকিৎসা শিক্ষা উৎসাহিত করা এবং সদস্য প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি নিশ্চিত করা। বিপিএমসিএর আওতাধীন ৬৮টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার রোগী আউটডোরে চিকিৎসা পান এবং প্রায় ১২ হাজার রোগী ইনডোর সুবিধাগুলোতে পরিষেবা পান। বাংলাদেশে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতে ১ লাখেরও বেশি স্বাস্থ্যসেবা কর্মী কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

দুই দিনব্যাপী বিভিন্ন সেশনে অতিথিরা আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন। আলোচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ শাখার প্রতিনিধি ডা. বারজান জং রানা, বাংলাদেশ মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, ইন্দোনেশিয়া থেকে আগত সাউথ-ইস্ট এশিয়া রিজিওনাল কাউন্সিল ফর মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর তিতি সাবিত্রি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাদের উপস্থাপনা জানানোর কথা রয়েছে।

এছাড়াও থাইল্যান্ড মেডিকেল এডুকেশন অ্যাক্রিডিটেশন ইন্সটিটিউট থেকে প্রফেসর সোমচাই ইয়ংসিরি, ভারতে জি আই সার্জারি ও মেডিকেল এডুকেশন থেকে প্রফেসর অবিনাশ সুপে ও কলম্বো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রফেসর ইন্দিকা মহেশ করুণাখিলাকে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ড. মো. নাসির উদ্দিন, সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয় সম্মেলনে অ্যাক্রিডিটেশন সংক্রান্ত বিষয় উপস্থাপন করবেন এ সম্মেলনে।