স্বল্প সময়ে বেশি উৎপাদন হওয়ায় বারি-১৪ জাতের সরিষা চাষে ঝুঁকছেন সাতক্ষীরার কৃষক। স্থানীয় জাতের সরিষা উৎপাদন যেখানে বিঘাপ্রতি তিন থেকে সাড়ে তিন মণ, সেখানে বারি-১৪ জাতের সরিষা প্রতি বিঘায় ছয় থেকে সাড়ে ছয় মণ পর্যন্ত উৎপাদন হচ্ছে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তারা। তাছাড়া সরিষা উঠিয়ে সেখানে আবার বোরো চাষ হচ্ছে। ফলে বছরে তিনটি লাভজনক ফসল উৎপাদন করতে পারছেন কৃষক। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিকড়ি গ্রামে সম্প্রতি বারি-১৪ জাতের সরিষার মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৃষকরা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন।
শিকড়ি গ্রামের কৃষক গোলাম হোসেন জানান, গত বছর চার বিঘা জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষা চাষ করে প্রায় ২৫ মণ সরিষা উৎপাদন করেন। যা স্থানীয় টরি-৭ জাতের তুলনায় অন্তত ৪০ শতাংশ পরিমাণ বেশি। তাই চলতি মৌসুমে ছয় বিঘা পরিমাণ জমিতে বারি-১৪ সরিষা চাষ করেছেন। জমি চাষ, সেচ, সার-কীটনাশক দিয়ে প্রতি বিঘায় ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা খরচ হয় সরিষা উৎপাদনে।
কৃষক গোলাম হোসেন বলেন, ‘গত মৌসুমে চার বিঘা জমির সরিষা উৎপাদনে আমার ৪০ হাজার টাকার বেশি লাভ হয়। চলতি বছর আমি ছয় বিঘা জমিতে ৭০-৭৫ হাজার টাকা লাভ হবে বলে আশা করছি। তাছাড়া সরিষা উত্তোলন করে একই জমিতে বোরো চাষ করব।’
সাতক্ষীরার বালিথা গ্রামের কৃষক আজগর আলী জানান, চলতি মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষা করেছেন। গত বছর একই পরিমাণ জমিতে ১৩ মণ সরিষা উৎপাদন হয়। সেখানে উৎপাদন খরচ উঠিয়ে ২৮ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। এরই মধ্যে জমির সরিষা উত্তোলন শেষ করেছেন। এবার বোরো রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) অধীন সাতক্ষীরার বিনেরপোতায় অবস্থিত কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফকির অলি আহমেদের সভাপতিত্বে ওই মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বারি প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. রবিউল ইসলাম।
এদিকে সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২০২২-২৩ মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলায় ১৪ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪ হাজার ৩২০ হেক্টর, কলারোয়ায় ৬ হাজার ৬৫০, তালায় ৮৯৬, দেবহাটায় ১ হাজার ৭৫, কালীগঞ্জে ৪৫০, আশাশুনিতে ৩৫০ ও শ্যামনগরে ২৮০ হেক্টর। যা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ১ হাজার হেক্টর বেশি।
সূত্রটি জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৩ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. জামাল উদ্দিন জানান, বারি-১৪ জাতের সরিষা কৃষকদের মাঝে বেশ আশা জাগিয়েছে। জেলার মোট আবাদের কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ চাষ হয়েছে বারি-১৪ জাতের সরিষা। তিনি বলেন, স্থানীয় জাতের তুলনায় এ সরিষার ফলন প্রায় দ্বিগুণ। স্থানীয় টরি-৭ জাতের সরিষা প্রতি বিঘায় উৎপাদন তিন থেকে সাড়ে তিন মণ, সেখানে বারি-১৪ জাতের সরিষা ছয় থেকে সাড়ে ছয় মণ হচ্ছে। ফলে বারি-১৪ জাতের সরিষা চাষে কৃষকরা বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।










