বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে বৈচিত্র্যময় আবহে জেগে উঠেছে বাংলাদেশ। বাঙালির প্রাণের উৎসব ছড়িয়েছে দেশজুড়ে। উৎসবের রঙে নিজেদের রাঙিয়েছেন অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মানুষও। শোভাযাত্রা, লোকজ সংস্কৃতি, গান, নাচ, আবৃত্তি—সবই ছিল এসব আয়োজনে। গ্রামগঞ্জে বসেছে বৈশাখী মেলা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আয়োজন করা হয়েছে নানা অনুষ্ঠান। জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতে নতুন বছরকে বরণ করতে ছিল নানা আয়োজন। অতিথিদের মাঝে পরিবেশন করা হয় ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত :

যশোর : জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশেই পালন হচ্ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব বর্ষবরণ। সঙ্গীত, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি ও আনন্দ শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে যশোরে বঙ্গাব্দ ১৪৩৩ বরণ করে নেয়া হয়েছে। সকাল ৬টা ৩১ মিনিটে যশোর পৌর উদ্যানে এসো হে বৈশাখ সঙ্গীত দিয়ে সূচনা করে উদীচী যশোর। সংগঠনটির এবারের আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বর্ষবরণের ৫০ বছর পূর্ণ করেছে। ফলে এবারের আয়োজন ছিলো ভিন্ন।
একইসময় যশোর নবকিশলয় স্কুল মাঠ, মুসলিম একাডেমীসহ ২০টি স্পটে আয়োজন করা হয় নানা অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানে কবিগান, পালাগান, পঞ্চকবির গান, আধুনিক গান, লোকসঙ্গীত, লোকনৃত্য, বাউল গান পরিবেশন করা হয়। বর্ষবরণ শোভাযাত্রার আঁতুড়ঘর বলা হয় যশোরকে। এ শহর থেকেই চারুপীঠ নামের একটি সংগঠন ১৯৮৫ সালে শুরু করেছিল বর্ষবরণের প্রথম শোভাযাত্রা। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও সকাল ৯টার দিকে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে সম্মিলিতভাবে আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

কুড়িগ্রাম : সকালে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে এক বর্ণিল শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আই লাভ কুড়িগ্রাম চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
পরে সেখানে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বি.এম. কুদরত-এ-খুদা, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব, জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন, পিপি অ্যাডভোকেট বজলুর রশিদ, কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সফি খান, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা।

নরসিংদী : সকালে নরসিংদী জেলা স্টেডিয়াম থেকে একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ-আল-ফারুক মহোদয়।

চুয়াডাঙ্গা : সকাল ৮টায় জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে সকাল সাড়ে ৮টায় চাঁদমারি মাঠ থেকে সরকারি কলেজের উদ্দেশ্যে এক বিশাল বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি চুয়াডাঙ্গা কোর্ট মোড়, শহীদ হাসান চত্বর, পৌরসভা মোড়, কবরী রোড হয়ে সরকারি কলেজে গিয়ে শেষ হয়। চুয়াডাঙ্গার মোট ৫১টি সংগঠন এ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে। পরে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সী আবু সাইফের সঞ্চালনায় আয়োজিত এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। এ সময় প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি.এম. তারিক উজ জামান, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর আলাউদ্দিন আল আজাদ, সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহ আল নাঈম, সহকারী কমিশনার আশফাকুর রহমান, সহকারী কমিশনার মির্জা শহীদুল, এবি পার্টির জেলা সভাপতি আলমগীর হোসেন, জেলা জাসাসের সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম।

বরিশাল : বরিশাল জেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করে। সকাল ৮টায় বৈশাখী শোভাযাত্রার মাধ্যমে নববর্ষের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শোভাযাত্রা সার্কিট হাউস চত্বর থেকে শুরু হয়ে নগরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে স্থানীয় সরকার পরিচালক খোন্দকার আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. সোহরাব হোসেন, জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন, পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া উৎসবমুখর পরিবেশে নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বরিশাল প্রেসক্লাবে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার, প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন।

সাতক্ষীরা : বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষে সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে সাতদিনব্যাপী বৈশাখী উদ্যোক্তা মেলা উদ্বোধন করা হয়েছে। বাংলাদেশ কুটির শিল্প (বিসিক) সাতক্ষীরার আয়োজনে ও জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় গতকাল সকাল ৮টায় মেলার উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আক্তার। মেলায় স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ৫০টি ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন। মেলায় নকশিকাঁথা, মৃৎশিল্প, নারীদের পোশাক, পাটপণ্য, বাঁশ ও বেতের পণ্য, কসমেটিকস ও শিশুদের নানা প্রকার খেলনাসহ হরেক রকমের সুস্বাদু খাবারের স্টল এসেছে।

চাঁদপুর : চাঁদপুরে পহেলা বৈশাখ উদযাপন হচ্ছে। সকাল ৯টায় শহরের হাসান আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিতে বিভিন্ন ধরনের বাঙালি সংস্কৃতির প্রতীক নিয়ে শোভাযাত্রা শহর প্রদক্ষিণ করে ডাকাতিয়া নদীর পাশের মাঠে মিলিত হয়। র্যালিতে নেতৃত্ব দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।

নওগাঁ : সকাল ৯টায় শহরের এটিম মাঠ থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুরাতন কালেক্টরেট চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা গ্রামবাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরে নান্দনিক সাজসজ্জা ও রঙিন পোশাকে নতুন বছরকে স্বাগত জানান। শোভাযাত্রা শেষে পুরাতন কালেক্টরেট চত্বরে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে পরিবেশিত হয় বর্ষবরণের গান, নৃত্য ও আবৃত্তি। পাশাপাশি দিনব্যাপী লোকজ মেলারও উদ্বোধন করা হয়, যেখানে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পণ্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতির নানা উপস্থাপনা স্থান পায়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নওগাঁ সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু। এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পটুয়াখালী : সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি শোভাযাত্রা শুরু হয়। এতে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পটুয়াখালী জেলা পরিষদ শিশু পার্কে গিয়ে শেষ হয়। পরে সকাল সাড়ে ৮টায় জেলা পরিষদ শিশু পার্কে লোকজ মেলার শুভ উদ্বোধন করেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, সিভিল সার্জন ডা. মো. খালেদুর রহমান মিয়া, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জুয়েল রানা, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মজিবুর রহমান টোটন, জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতা মাকসুদ আহমেদ বায়জিদ পান্না, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি অ্যাড. নাজমুল আহসান, জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহআলম সিকদার, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাড. মো. জাকির হোসেন।
মেহেরপুর : সকাল ৮টার দিকে জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বৈশাখকে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়। পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টনসহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

দিনাজপুর : নববর্ষকে বরণ করতে দিনাজপুর জেলা প্রশাসন শহরের মুন্সিপাড়ায় একাডেমি স্কুল প্রাঙ্গণে প্রভাতী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। জেলা শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা বিভাগের শিল্পীরা এতে অংশ নেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।
পৃথক অনুষ্ঠানে দিনাজপুর উদীচী মঙ্গলবার সকাল ৬টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শতাধিক শিল্পীর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলা নতুন বছর ১৪৩৩-কে বরণ করেছে। অনুষ্ঠানে দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম দিনাজপুরবাসীকে শুভেচ্ছা জানান।
এছাড়া পৃথক বৈশাখী উৎসব পরিষদের জেলা আহ্বায়ক বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মো. সফিকুল হক ছুটু এবং সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

গোপালগঞ্জ : সকাল সাড়ে ৬টায় গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্কে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নববর্ষ বরণের কর্মসূচি শুরু করা হয়। পরে সেখানে ‘এসো হে বৈশাখ’ গান পরিবেশন করে বর্ষবরণের সাংস্কৃতিক পর্বের সূচনা করা হয়।
পরে জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামানের নেতৃত্বে সকাল পৌনে ৯টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
জেলা প্রশাসন আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-০২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ, জেলা পরিষদ প্রশাসক শরীফ রফিকুজ্জামান, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত কুমার দেবনাথ।
এছাড়া গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়সহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দিনভর নানা কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেওয়া হয়। সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুল আহসানের নেতৃত্বে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়।

রাজবাড়ী : সকাল সাড়ে ৮টায় নববর্ষ উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদসহ শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
পরে সকাল সাড়ে ৯টায় বর্ষবরণ পরিষদের আয়োজনে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

সিরাজগঞ্জ : বৈশাখী শোভাযাত্রা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিল্পীদের পরিবেশনায় গান-নাচ, গ্রামীণ লাঠিখেলা, তীর-ধনুকসহ নয়নাভিরাম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সিরাজগঞ্জে পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ পালন করা হয়। দিনটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য সংগঠনের উদ্যোগে বাঙালির জীবনের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরে গান-নাচ পরিবেশন করা হয়। তবে জেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল প্রাণবন্ত ও দেখার মতো। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সময় পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সান্তু উপস্থিত ছিলেন।

রাবি : সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে বৈশাখী গানের তালে বৈশাখী শোভাযাত্রা উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ বৈশাখকে স্বাগত জানাতে আয়োজন করেছে নানা ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠান। চারুকলার ছাত্রছাত্রীদের আঁকা আলপনা, মুখোশ ও বিশাল বৈশাখী শোভাযাত্রা যেন প্রাণ ছুঁয়ে যায় হাজারো শিক্ষার্থীর মনে। এদিকে বিভিন্ন বিভাগে পান্তা-মাছ ভোজনের আয়োজন করা হয়েছে।
চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা যে মোটিফগুলো উপস্থাপন করছি সেগুলোর একটি অন্তর্নিহিত অর্থ তুলে ধরার চেষ্টা করছি। এখন বিশ্বে যে তেলের একটি মহামন্দা চলছে, আমরা রাজশাহীর পুরনো বাঙালির ঐতিহ্য ঘোড়ার গাড়ি প্রদর্শনের মাধ্যমে তুলে ধরেছি।
বৈশাখী শোভাযাত্রার উদ্বোধনী বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মধ্যে বাংলা নববর্ষ অন্যতম। নববর্ষ আমাদের অতীতের দুঃখ, গ্লানি ও হতাশা ভুলে নতুন আশা ও উদ্দীপনায় সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।
নেত্রকোনা : সকাল ১০টায় বেলুন উড়িয়ে দিনব্যাপী বর্ষবরণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সভাপতি বিশিষ্ট অর্থোপেডিকস চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক। পরে অতিথিরা মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। পরে জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নূরু।
ঝালকাঠি : সকাল ৯টায় বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ।










