পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক নিজেদের অধীনে পরিচালিত করতে চায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ। এ বিষয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে অর্থ বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটি পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীনে পরিচালনায় আপত্তি জানিয়েছে অর্থ বিভাগ।

অর্থ বিভাগ বলছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে বিশেষায়িত ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনে থাকাই সমীচীন হবে।

অন্যদিকে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীনে দেয়া যেতে পারে বলে মত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিষয়টি নিয়ে মতামত জানিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে একটি চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই চিঠিতে বলা হয়, ২০১৪ সালের পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আইনের ১১(১) ধারা অনুযায়ী ব্যাংকের পর্ষদ গঠিত হবে এবং ১০(১) ধারা অনুযায়ী পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম ও বিষয়াবলির পরিচালনাসংক্রান্ত নির্দেশনা এবং তত্ত্বাবধান পরিচালনা বোর্ডের ওপর ন্যস্ত থাকবে। ব্যাংকের পর্ষদের গঠনসংক্রান্ত ১১(১) ধারার (ঙ) ক্রমিক অনুযায়ী, গ্রামীণ অর্থনীতি, মাইক্রো ফাইন্যান্স হিসাববিজ্ঞান, পল্লী ও দারিদ্র্য বিমোচন এবং ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটির শিল্প বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে পাঁচজন প্রতিনিধি ও (চ) ক্রমিক অনুযায়ী, স্থানীয় সরকারের দুজন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে পর্ষদ সদস্য হিসেবে মনোনীত করার বিষয়টি পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীনে নেয়া যথাযথ হবে। এছাড়াও ধারা ১২(১) অনুযায়ী, পর্ষদের চেয়ারম্যান নিযুক্তি এবং ধারা ১৪(১) অনুযায়ী পরিচালকদের অব্যাহতি প্রদানের বিষয়টি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীনে নেয়া যথাযথ হবে।

ব্যাংকটির শেয়ার মূলধনের মধ্যে সরকার কর্তৃক পরিশোধিত অংশের ৫১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পরিবর্তে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগে ন্যস্ত করা যেতে পারে বলেও মত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ওই চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংক আরো বলেছে, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয় ও ব্রাঞ্চ স্থাপন, ১৩ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ এবং ২১ ধারা অনুযায়ী তহবিল ও ট্রাস্ট গঠনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া ব্যাংকের নিরীক্ষাসংক্রান্ত ২৬(১) ধারা ও রিটার্ন দাখিলসংক্রান্ত ২৭(১) ধারার পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংককে তফসিলি ব্যাংকে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা ১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইন ব্যাংকটির জন্য প্রযোজ্য করার দায়িত্ব পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগে ন্যস্ত করা যথাযথ হবে।

এদিকে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কার অধীনে থাকবে সে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির এক বৈঠকেও। ওই বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মালিকানা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগে থাকতে পারে। রেগুলেট করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয় দ্বারা পরিচালিত। সে কারণে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা, তা দেখবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

একই বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা বাংলাদেশ ব্যাংকের রেগুলেট করার সিদ্ধান্ত ছিল। তবে মালিকানা থাকবে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে না থাকায় সমবায় ব্যাংকের অবস্থাও নাজুক। ব্যাংকটি রুগ্ণ এবং নানা ধরনের দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট সমস্যায় জর্জরিত। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক এবং সমবায় ব্যাংক যাতে বাংলাদেশ ব্যাংক রেগুলেট করে এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীনে থাকে, তার জন্য প্রয়োজনে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে।