যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করে উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের মিলাওয়াকি শহরে। এর বাইরে শিকাগোসহ আরো কিছু শহরেও রোহিঙ্গাদের আলাদা কমিউনিটি দেখতে পাওয়া যায়। তাদের বড় একটি অংশ সেখানে গেছে বাংলাদেশ থেকে। সামরিক জান্তার নিপীড়নের মুখে প্রাণে বাঁচতে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের এ অধিবাসীরা শুরুতে পালিয়ে এসেছিল বাংলাদেশে। কক্সবাজারে গড়ে তুলেছে বিশ্বের বৃহত্তম উদ্বাস্তু ক্যাম্প। সেখান থেকে মার্কিন সরকারের  ইউনাইটেড স্টেটস রিফিউজি অ্যাডমিশন প্রোগ্রাম (ইউএসআরএপি) কর্মসূচিসহ নানা উপায় অবলম্বনের মাধ্যমে অভিবাসন নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।

রোহিঙ্গাদের বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার শুরুটা প্রায় এক যুগ আগে। প্রতি বছরই কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশটি। সবচেয়ে বেশি যাচ্ছে তৃতীয় কোনো দেশের মধ্যস্থতায়। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী রোহিঙ্গা কমিউনিটির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, মূলত উদ্বাস্তু শিবিরের অনিশ্চয়তা এড়াতেই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন গ্রহণের প্রয়াস নিচ্ছেন তারা। 

এমনই একজন ড. হাবিব উল্লাহ। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। বর্তমানে তিনি আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের সাধারণ সম্পাদক ও আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের নির্বাহী কমিটির সদস্যের দায়িত্ব পালন করছেন। ড. হাবিব উল্লাহ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌কয়েকটি উপায়ে রোহিঙ্গারা যুক্তরাষ্ট্রে আসে। সবচেয়ে বেশি আসে তৃতীয় একটি দেশের মধ্যস্থতায়। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা আছে যুক্তরাষ্ট্রের মিলাওয়াকিতে। এখানে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজারের মতো হবে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রোহিঙ্গা রয়েছে টেক্সাসের শিকাগো শহরে। এছাড়া পেনসিলভানিয়া, মিশিগান ও নিউইয়র্কসহ বেশকিছু স্থানে রোহিঙ্গারা বাস করছে। যদিও সঠিক সংখ্যা বলা সম্ভব না; তাও বলা যায় প্রায় ৩০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছে। শুরুর দিকে মালয়েশিয়া থেকেই রোহিঙ্গারা যুক্তরাষ্ট্রে আসত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই চিত্র পাল্টে গেছে। বিশেষ করে ২০১৭ সালের পর বাংলাদেশ থেকে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের (ইউএনএইচসিআর) মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা যুক্তরাষ্ট্রে আনা হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌যুক্তরাষ্ট্রে আসার সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যায় রোহিঙ্গাদের জীবন। এখানকার সরকার তাদের জন্য আলাদা কার্ড করে দেয়। যতদিন পর্যন্ত কাজ না পায়, ততদিনই সরকারই তাদের দায়িত্ব নিয়ে থাকে। এছাড়া এখানে রোহিঙ্গাদের নানা কমিউনিটি গ্রুপ আছে। সেখান থেকে তাদের জন্য নানা ধরনের কাজ করে থাকে। আমরা তো আছিই। আমাদের কাজের একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি বোঝা যাবে। যেমন প্রথম দিকে মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে কোনো রোহিঙ্গাকে নেয়া হতো না। আমরা নানাভাবে এখানকার গভর্নরের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছি। নতুন গভর্নর আসার পর এ বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছেন।’

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের একাংশ বসবাস করছে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে। সেখানকার রোহিঙ্গা কালচার সেন্টারের সিনিয়র কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌শিকাগোয় প্রায় ৭০০ রোহিঙ্গা পরিবারের বসবাস। এখানে বেশির ভাগই মালয়েশিয়া থেকে আসা রোহিঙ্গা। তবে এখন বাংলাদেশীরা বেশি আসছে। গত বছর বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ১০টি রোহিঙ্গা পরিবার শিকাগোয় এসেছে। আরাকানসাস ও ওহাইয়োয় বাংলাদেশ থেকে আসা রোহিঙ্গাদের কয়েকটি পরিবারও এখানে চলে এসেছে, যেহেতু সেখানে রোহিঙ্গা প্রায় নেই বললেই চলে। সব মিলিয়ে এক বছরে ১৫টি পরিবারের প্রায় ১০০ রোহিঙ্গা এখানে এসেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌আমরা আমাদের রোহিঙ্গা পরিচয়কে ধরে রাখতে চাই। কেননা এর আগে যখন মিয়ানমার বা মালয়েশিয়ায় ছিলাম তখনো এ পরিচয়কে ধারণ করার সুযোগ পাইনি। আমাদের সংগঠনটি এখন এ নিয়েই নানাভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এখানে আমরা যারা বার্মায় আছে তাদের পক্ষে কথা বলছি এবং মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। একটি কথা না বললেই নয়, রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ে বাংলাদেশ সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সংকটময় মুহূর্তে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোয় বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’

মার্কিন সরকারের পুনর্বাসন কর্মসূচির বাইরে অনুমোদিত-অবৈধ নানা পথেও প্রচুর রোহিঙ্গা প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমানোর প্রয়াস চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। নিশ্চিত জীবনযাপনের খোঁজে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিপৎসংকুল সাগর পাড়ি দেয়াসহ পরিচয় পাল্টে বা অন্য কোনো উপায়ে নতুন কোনো দেশের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছে তারা। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যমতে, উদ্বাস্তু শিবিরের অনিশ্চয়তা, দৈন্যদশা ও নাজুক জীবনযাপন তাদের মধ্যে মানব পাচারের শিকার হওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। শিবির থেকে পালিয়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিতে গিয়ে যাত্রাপথে সর্বস্ব দিয়ে দিচ্ছে অনেকেই। পাচারকারীদের নির্যাতনের শিকার হওয়া ছাড়াও কেউ কেউ পথেই মৃত্যুবরণ করছে। আবার যাত্রাপথে ধরা পড়ে বিভিন্ন দেশে জেলবন্দি জীবনযাপনও করছে অনেকে।

বৈধপথে অভিবাসন গ্রহণে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়; কানাডা, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডসহ বেশকিছু দেশে তাদের আশ্রয় গ্রহণের সুযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এক্ষেত্রে বৈধ পথে তাদের অভিবাসন গ্রহণে সহায়তা করে থাকে ইউএনএইচসিআর।

যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য গন্তব্যে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনএইচসিআরের পক্ষ থেকে বণিক বার্তাকে বলা হয়, ইউএনএইচসিআর যাদের অন্য কোথাও পুনর্বাসন প্রয়োজন, সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে গন্তব্য দেশের প্রয়োজনমাফিক তথ্য সংগ্রহ করে। তাদের গ্রহণ করা হবে কি হবে না তা ওই গন্তব্য দেশেরই সিদ্ধান্ত, ইউএনএইচসিআরের নয়। পুনর্বাসনের বিষয়টি নিয়মিত পর্যালোচনার বিষয়। এ কারণে আমরা এখন বাংলাদেশ থেকে অন্যত্র অভিবাসন গ্রহণকারীর সঠিক সংখ্যাটি জানাতে পারছি না। 

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা আসে ২০১৭ সালে। এর আগ পর্যন্ত বাংলাদেশে রোহিঙ্গার সংখ্যা ছিল প্রায় তিন লাখ। সে বছরই মিয়ানমারে রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর নিপীড়ন শুরু হলে প্রায় সাড়ে সাত লাখের মতো রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে সব মিলিয়ে দেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১০ লাখের বেশি, যারা বসবাস করছে কক্সবাজারের বিভিন্ন শিবিরে।

যুক্তরাষ্ট্রে রোহিঙ্গাদের অভিবাসন সম্পর্কে উদ্বাস্তুবিষয়ক গবেষক এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ইসরাত জাকিয়া সুলতানা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রক্রিয়া দুটি। বৈধ ও অবৈধ উভয় পন্থায়ই তারা যায়। তবে যারা নিবন্ধিত, তাদের মধ্যে বৈধভাবে যাওয়ার প্রবণতাই বেশি। অন্যদিকে যারা নিবন্ধিত নন, তারা মূলত অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করে থাকে। বৈধভাবে যাওয়ার বিষয়টি ইউএনএইচসিআর ও বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে হয়। সেটি বর্তমান সময়ে ভালোভাবেই হচ্ছে। কিছুদিন আগেই আমি সেখানে দেখে এসেছি। রেজিস্টার্ড ক্যাম্পে বিশেষ করে কুতুপালং ও টেকনাফে বেশ নিয়মিতভাবে ইউএনএইচসিআরের ডাটাবেজে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রিসেটলমেন্ট কার্যক্রমের আওতায় তাদের নেয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে তাদের নেয়া হয়। তবে কোন অঙ্গরাজ্যে নেয়া হবে, কোন অঙ্গরাজ্যে নেয়া হবে না সেটি একান্তই যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তবে আমরা জানি ও মানি যে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নেয়ার পেছনে বাংলাদেশের স্বার্থ যতটা রয়েছে, এর চেয়ে বেশি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ। আমরা চাইলেও বড় সংখ্যক রোহিঙ্গা যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবে না। যদি যায়ও তাহলে দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্বার্থটা বিবেচনা করেই রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ঢুকতে দেবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌সেখানে অবস্থিত রোহিঙ্গারা নিজেদের সংগঠন তৈরি করেছে। এসব সংগঠন রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করছে। আর নতুন যারা যাচ্ছে, তারা গিয়ে নতুন পরিবেশ-আবহাওয়ায় তাল মিলিয়ে উঠতে উঠতে সময় লেগে যাচ্ছে। তবে যারা অনেকদিন ধরে আছে, তারা সেখান থেকে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধানে চেষ্টা করছে। কিন্তু বিষয়টি এককভাবে সমাধানের জায়গায় নেই। যুক্তরাষ্ট্রে নিশ্চিত জীবনযাপনের সুযোগ পেয়েছে বলে তাদের মধ্যে অনেক আশা যে অন্তত তৃতীয় একটি দেশে তারা নতুনভাবে জীবন শুরু করতে পারছে। ভবিষ্যতে কেমন হবে এর চেয়ে বড় বিষয় কিন্তু অন্তত ক্যাম্পের অনিশ্চিত জীবনটা শেষ হয়েছে। এর ফলে তাদের মধ্যে যারা এখনো যায়নি তাদের মধ্যে যাওয়ার আগ্রহ বেশ প্রবল। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী এখন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ থেকেই বেশি রোহিঙ্গা যাচ্ছে। কারণ এখানে রোহিঙ্গার সংখ্যা বেশি। যদিও মালয়েশিয়া থেকে কিছু সেখানে যাচ্ছে, কিন্তু এখন সে হারটি কম।’

শরণার্থীদের নিয়ে সবচেয়ে বড় সম্মেলন সুইজারল্যন্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক শরণার্থী ফোরাম (জিআরএফ)। গত বছর এ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ২৬ দফা প্রতিশ্রুতির মধ্যে উঠে এসেছে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে জানানো হয়, ইউএসআরএপির আওতায় ২০২৪ সালে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশ থেকে রোহিঙ্গাদের যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসন করা হবে। এছাড়া চলতি বছর রোহিঙ্গা পুনর্বাসনে অন্যান্য দেশকেও উৎসাহিত করবে ওয়াশিংটন।

রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বণিক বার্তাকে বলা হয়, ‘‌বার্মার (মিয়ানমার) সামরিক সরকার ও সেখানে ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকট এখন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তায় ক্রমেই ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। আমরা পরিস্থিতির পরিবর্তন, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সহিংসতা বন্ধের পাশাপাশি অবাধে মানবিক সহায়তার প্রবেশাধিকার দিতে সামরিক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে চলেছি। একই সঙ্গে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক সরকার গঠনে আলোচনার পথ তৈরিরও আহ্বান জানাচ্ছি। আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আমাদের আহ্বান, তারা যাতে বার্মায় গ্রহণযোগ্য ও  অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরুতে রাজনৈতিক, জাতিগত ও ধর্মীয় অংশীজনদের প্রতি সমর্থন বাড়ায়। বার্মার সামরিক বাহিনীর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধমূলক অভিযানের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার উদারতা দেখিয়েছে। বাংলাদেশে উদ্বাস্তু সংকট মোকাবেলায় বৃহত্তম দাতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু ও তাদের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সহায়তায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০১৭ সালের পর থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি জীবনরক্ষাকারী সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।