পঞ্চগড় ও নেত্রকোনায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার পৌরসভার নতুনবন্দর এলাকায় আঞ্চলিক মহাসড়ক ও বিকালে নেত্রকোনার কলমাকান্দায় উপজেলার ভারত সীমান্ত সড়কের চেংনি বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বণিক বার্তাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

পঞ্চগড় : দেবীগঞ্জ উপজেলায় ঈদ আনন্দে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে গিয়ে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন উপজেলার কালিগঞ্জ ইউনিয়নের লোহাগারা শুপাড়িতোলা গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে সাব্বির (১৬), একই এলাকার বাসেত আলীর ছেলে কাউছার (১৫),  দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের খাঁ পাড়া এলাকার মজনুর ছেলে সাব্বির (২২) ও দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের খাঁ পাড়া এলাকার হজরত আলীর ছেলে বরকত (১৭) ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দুপুরে বাড়ি থেকে ভাতিজা কাউছারকে মোটরসাইকেলে নিয়ে ঘুরতে বের হয় সাব্বির। একসময় দেবীগঞ্জ বাজার থেকে আরও একজনকে সঙ্গে নিয়ে তিনজন সোনাহার বাজারের দিকে যাচ্ছিল। পথে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই মারা যায় কাউছার। রংপুর মেডিকেলে নেয়া হলে মারা যায় আরো তিনজন। 

দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার ইফতেখারুল মোকাদ্দেম জানান, মরদেহগুলো প্রাথমিক সুরতহাল শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় সড়ক দুর্ঘটনা আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। 

নেত্রকোনা : নেত্রকোনার কলমাকান্দায় মোটরসাইকেলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিন যুবক নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কয়রা কুমিল্লাপাড়া গ্রামের কবীর মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়া (২৩), আমতলা গ্রামের মো. জয়নাল মিয়ার ছেলে হালিম হোসেন (১৮) ও হাটশিরা শিবনগর গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে নবী হোসেন (৩৫)। তারা একে অপরের পরিচিত।

কলমাকান্দা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুল হক জানান, ঈদের বিকেলে উপজেলার নাজিরপুর থেকে তিনজন একটি মোটরসাইকেলে চড়ে সীমান্ত সড়ক দিয়ে পাহাড় দেখতে বের হন। তারা সড়কের চেংনিবাজার এলাকায় পৌঁছালে চলন্ত অবস্থায় মোটরসাইকেলের চাকা ফেটে যায়। দ্রুতগতি থাকায় মোটরসাইকেলটি এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে পড়ে গেলে মোটরসাইকেলে থাকা তিনজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।