সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিবৃতি প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাদা দলের শিক্ষকরা।
সোমবার (১৫ জুলাই) ঢাবি সাদা দলের বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোটা বৈষম্যের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলন কর্মসূচি দমনে
পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ সন্ত্রাসীদের দ্বারা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বর্বরোচিত নিপীড়ন,
প্রতিবাদকারীদের নির্মমভাবে হত্যা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকাল বন্ধে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত। আমরা এসব ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।
আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নিয়ে উদ্ভূত
সংকট দ্রুত সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে সাদা দল।
বিবৃতিতে তারা জানান, শিক্ষার্থী ও চাকরি
প্রত্যাশীদের কোটা বৈষম্যের বিরুদ্ধে পরিচালিত আন্দোলন অত্যন্ত যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত।
তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল সমর্থক শিক্ষকদের শুরু থেকেই এ আন্দোলনে সমর্থন
রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক
সময়ে এ সরকারের বড় সহায়ক শক্তি পুলিশ বাহিনীর সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সেনাবাহিনীর
সাবেক প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের সীমাহীন দুর্নীতির
তথ্য জনগণের সামনে এসেছে। দাবি উঠেছে এদের প্রশ্রয়দাতা ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকদের খুঁজে
বের করার। আবার অভিযোগ এসেছে পিএসসির অধীনে বিসিএসের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র
ফাঁসের। এসব ঘটনাও আমাদের তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের দারুণভাবে বিক্ষুব্ধ করেছে।
যা কোটা বিরোধী আন্দোলনে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে বলে আমরা মনে করি।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এছাড়াও পুলিশ ও ছাত্রলীগকে ব্যবহার
করে আন্দোলনকে সহিংসরূপ দিয়ে একে দমনের নামে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীদের
ওপর সীমাহীন নির্যাতন চালিয়েছে। এরই মধ্যে হত্যা করা হয়েছে বেশ কয়েকজন প্রতিবাদকারীকে।
ধ্বংস করা হয়েছে অসংখ্য তরুণের স্বপ্নকে। চলমান আন্দোলনে জাহাঙ্গীনরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের
একজন শিক্ষক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। লাঞ্চণার শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়সহ বিভিন্ন
বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক। এত দমননিপীড়নের মাধ্যমেও তারুণ্যের দ্রোহকে নিয়ন্ত্রণে
ব্যর্থ হয়ে স্বৈরাচারী কায়দায় বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের
জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে।
সাদা দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, ন্যায্য ও যৌক্তিক আন্দোলন দমনের
নামে পুলিশ ও নিজ দলের সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার জন্য সরকারকে আহ্বান
জানাচ্ছি। ন্যায়ের পক্ষে ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সব সময় সাদা দলের সমর্থন ও সক্রিয়
অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
পরিশেষে গত কয়েকদিনের নির্যাতন ও হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচার, কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সমাধান এবং অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।










