আগামী ডিসেম্বরেই দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তনের আশা করছেন মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ। তিনি বলেন, আমাদের ব্যাংকগুলো লুট হয়েছে, কিন্তু সরকার ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠনে কাজ করছে। আশা করি, ডিসেম্বরেই একটি ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাব।

মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) গুলশানে একটি হোটেলে ‘তথ্য অধিকার প্রাপ্তিতে নারীর অগ্রগতি’ প্রকল্পের (এডব্লিউআরটিআই) বার্ষিক সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। সম্মেলনটি আয়োজন করে দ্য কার্টার সেন্টার ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)।

শারমিন এস মুরশিদ বলেন, আমাদের আন্দোলন বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যা নিয়ে গবেষণার সুযোগ রয়েছে। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। তার ভাবমূর্তি ও জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান। এই দিক থেকে বলছি, আমরা খুব শিগগিরই আমাদের দুঃসময় কাটিয়ে উঠতে পারব।

উপদেষ্টা বলেন, ৭১ এর অসম্পূর্ণতার যন্ত্রণা আজকের প্রজন্মের মধ্যে আবারো উন্মোচিত হয়েছে। গণতন্ত্র, সাম্য ও মূল্যবোধের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে, যা তরুণ প্রজন্ম সামনে নিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালে ৭১ এর আদর্শের পুনর্জন্ম হয়েছে, যা আমাদের ধরে রাখতে হবে।

মানবাধিকার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সংবেদনশীলতা তুলে ধরে শারমিন এস মুরশিদ বলেন, আমাদের মুক্তচিন্তার জায়গা সংকুচিত হয়ে গিয়েছিল, যা নতুন প্রজন্মের আন্দোলনের মাধ্যমে আবারো প্রসারিত হয়েছে। তরুণদের আদর্শ ও সাহস আমাদের নতুন পথে নিয়ে যাচ্ছে।

এ সময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন, তথ্য অধিকার আইন পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। তথ্যই ক্ষমতা। নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য তাদের তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।

কার্টার সেন্টারের চিফ অব পার্টি সুমনা সুলতানা মাহমুদ প্রকল্পের বার্ষিক শিক্ষণ নিয়ে বলেন, ছয়টি জেলায় দলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংলাপ এবং ১৪৬ জন শিক্ষক, ১৩০ জন সরকারি কর্মকর্তা ও ২৩ জন নারী প্রতিনিধির প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়। এছাড়া ৩৪৪টি উঠান বৈঠকে ৪ হাজারের বেশি নারী অংশ নেন এবং ১ হাজার ৩৬৯টি তথ্য অধিকার আবেদন দাখিল করেন, যার ৮৮ শতাংশই নারী আবেদনকারী।

এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, নারীরা তথ্যের অধিকার পেলে শুধু নিজেরাই নয় বরং পরিবারেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। প্রান্তিক নারীদের জন্য এ প্রকল্পটি লৈঙ্গিক সমতা প্রতিষ্ঠার দিকে অগ্রসর হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ইউএসএআইডি বাংলাদেশের ডেমোক্রেসি, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড গভর্নেন্স অফিসের পরিচালক অ্যালেনা ট্যান্সি বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের জন্য তথ্য প্রাপ্তির সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ তথ্য কমিশনের পরিচালক এস এম কামরুল ইসলাম বলেন, দেশের মালিক জনগণের তথ্য জানতে চাওয়ার অধিকার আছে। তথ্য অধিকার আইনে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য এ আইনের পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।