সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদী ও হাওরে পানি বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি ২৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে। সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৭৫ মিলি মিটার। মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৫১৩ মিলিমিটার।  এতে পাহাড়ি ঢল নামছে সীমান্ত নদ-নদীতে। সীমান্ত নদী  খাসিয়ামারা, চেলা, চলতি, মরা চেলাসহ সবগুলো নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ফলে সীমান্ত এলাকার সড়কগুলো ভেঙে লোকালয়ের ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে।

জানা গেছে, শনিবার সকালে ভারত থেকে থেকে বয়ে আসা খাসিয়ামারা নদীর পানির স্রোতে দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া, ইদ্রিসপুর, চৌকিরঘাট বেড়িবাঁধ ভেঙে বিভিন্ন হাওরে পানি প্রবেশ করায় ঘরবাড়ি আসবাবপত্র, গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে। রাবার ড্যাম-বাংলাবাজার সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আমনের বীজতলা, আউশ ও সবজি খেত তলিয়ে গেছে।

এদিকে বোগলাবাজার ইউনিয়নের ক্যাম্পের গাঁট নামক স্থানে চিলাই নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সুরমা ইউনিয়নের টিলাগাও-টেংরাটিলা যাতায়াত রাস্তা বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে, মহব্বতপুর বাজার-লিয়াকতগঞ্জ বাজার সড়কে নোয়াপাড়া নামকস্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে উপজেলা সদরের সঙ্গে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ২৮টি ও সুরমা ইউনিয়নের ৫টি গ্রামসহ সীমান্তের লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে।

লক্ষ্মীপুর ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম জানান, খাশিয়ামারা নদীর পানির উপচেপড়া স্রোতে আমার ইউনিয়নে নোয়াপাড়া, ইদ্রিসপুর ও চৌকির গাঁট নামক স্থানে তিন ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। প্লাবিত হচ্ছে বেশ কিছু গ্রাম। শুকনো খাবার ও নিরাপদ পানি জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করেছি। রাবার ড্যাম-বাংলাবাজার সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অনেক এলাকা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নেহের নিগার তনু জানান, পাহাড়ি ঢলে কয়েক স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়েছি। চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদী পানি বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জ সুরমা নদীর পানি ২৮ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে।  বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৭৫ মিলি মিটার। মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৫১৩ মিলিমিটার।  এতে পাহাড়ি ঢল হয়ে নামছে সীমান্ত নদ-নদীতে। ভারতের মেঘালয়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।