শুরুর পথটা ছিল একেবারেই অমসৃণ। ছিল না কোনো একাডেমিক প্রশিক্ষণ। তিন বছর আগে ইউটিউবে ভিডিও দেখে রাঙ্গামাটির সুমেধ চাকমা গড়ে তুলেছেন শখের মাশরুম খামার। এখন ছোট্ট সে খামারের পরিধি বেড়েছে। বছরে উৎপাদন হচ্ছে চার টনের অধিক মাশরুম।

২০২১ সালের জানুয়ারিতে যাত্রা শুরু হয় বড়গাঙ মাশরুম এগ্রো ফার্মের। তিন বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম উৎপাদন করে যাচ্ছেন রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নের খামারপাড়ার সুমেধ চাকমা। খুচরা বিক্রির পাশাপাশি পেয়েছেন পাইকারি ক্রেতা। প্রতিদিন ১০-১৫ কেজি মাশরুম তুলতে পারেন তিনি। শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিনিয়োগ করেছেন প্রায় ৭ লাখ টাকা। মাশরুম বিক্রি করেছেন ১৪ লাখ টাকার।

সুমেধ চাকমা জানান, চলতি বছর সরকারিভাবে কৃষি বিভাগের হর্টিকালচার সেন্টার থেকে একটি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। প্রশিক্ষণের আগে মাশরুমের স্পার্ম বা বীজ পেতে ভোগান্তি পেতে হতো তাকে। এখন প্রশিক্ষণ নেয়ার পর নিজেই করছেন বীজ উৎপাদন। মাশরুম চাষে সরকারি প্রণোদনা কিংবা সুযোগ-সুবিধা পেলে ব্যবসা বাড়ানোর কথা ভাবছেন তিনি। পাশাপাশি উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়বে বলে আশাবাদী সুমেধ চাকমা।

বড়গাঙ মাশরুম এগ্রো ফার্মে গিয়ে দেখা গেছে, ভোরে সূর্য ওঠার আগ থেকেই মাশরুম তোলেন সুমেধ চাকমা। এরপর মাশরুমগুলো কেজি দরে বিক্রি করেন। একদিনেই ৩৫ কেজি মাশরুম তোলেন সুমেধ। চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বাড়ে-কমে মাশরুম তোলার পরিমাণ।

মাশরুমের দাম প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুমেধ চাকমা বলেন, ‘বর্তমান সময়ে পাইকারি দরে প্রতি কেজি মাশরুম বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৪০ টাকায়। খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকার মধ্যেই। গ্রীষ্মকালে উৎপাদন কম থাকায় দাম কিছুটা বাড়তি থাকে। পাইকারি বিক্রি হয় ৬০০-৭০০ টাকায়। আর খুচরা বিক্রি হয় প্রতি কেজি মাশরুম ১ হাজার টাকা।’

স্থানীয়রা বলছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবিকার প্রধান উৎস কৃষি। বর্তমান সময়ে পড়াশোনা শেষ করে চাকরি না পাওয়া অনেক যুবক ঝুঁকছেন চাষাবাদে। সাম্প্রতিক কয়েক বছরে পাহাড়ে বাণিজ্যিক বিভিন্ন ফলদ বাগান ও কৃষি উদ্যোক্তা বাড়ছে। চাকরির আশায় বসে না থেকে স্থানীয় যুবকরা উদ্যোক্তা হয়ে উঠছেন। এতে সংসারের হাল ধরার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন তারা।

উদ্যোক্তা সুমেধ চাকমা জানান, চলতি বছর ঢাকা হর্টিকালচার সেন্টার থেকে মাশরুম চাষ ও বীজ উৎপাদনের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। তার প্রতিষ্ঠিত বড়গাঙ মাশরুম এগ্রো ফার্মে ওয়েস্টার মাশরুম চাষ করছেন। গত বছর তিনি পরীক্ষামূলক মিল্কি জাতের মাশরুম চাষ করেও ভালো ফলন পেয়েছেন। তাই আগামীতে ওয়েস্টার, কান ও মিল্কি জাতের মাশরুম চাষাবাদ করবেন। মাশরুম উৎপাদন কেন্দ্রের উন্নয়নে আর্থিকভাবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সহায়তা প্রত্যাশা করছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) রাঙ্গামাটি কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাশরুমচাষীদের ঢাকা হর্টিকালচার সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাশরুম চাষীদের বিভিন্ন কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে।