খানাখন্দে ভরা ভাঙাচোরা রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে তীব্র জনদুর্ভোগের শিকার হচ্ছে বৃহত্তর ময়মনসিংহের মানুষ। অবিলম্বে জনদুর্ভোগ নিরসনে ঢাকা-ময়মনসিংহ, সড়কের জয়দেবপুর-টঙ্গী এলাকার ১২ কিলোমিটার জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করে গাড়ি চলাচল উপযোগী করা না হলে ১৬ জানুয়ারি থেকে বৃহত্তর ময়মনসিংহের (ময়মনসিংহ জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল) সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখার আলটিমেটাম দিয়েছে দ্য ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও ময়মনসিংহ জেলা মোটর মালিক সমিতি।

গতকাল দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এ কথা বলেন ময়মনসিংহ জেলা মোটরমালিক সমিতি সভাপতি মো. মমতাজ উদ্দিন মন্তা। সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআইর সহসভাপতি ও দ্য ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স সভাপতি মো. আমিনুল হক শামীম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহসভাপতি শংকর সাহা, জেলা মোটরমালিক সমিতির মহাসচিব মো. মাহবুবুর রহমান, সহসভাপতি অধ্যাপক শ্যামল দত্ত, কোচ বিভাগের সম্পাদক সোমনাথ সাহা প্রমুখ।

জয়দেবপুর-টঙ্গীর ১২ কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দে ভরা। ভাঙাচোরা রাস্তা মেরামত না হওয়ায় যাত্রীরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়ায় অসংখ্য কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। মো. মমতাজ উদ্দিন মন্তা বলেন, দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো অনেকটাই দৃশ্যমান। এত উন্নয়নের জোয়ারের মাঝেও কোথাও কোথাও উন্নয়ন হোঁচট খাচ্ছে। ময়মনসিংহ থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটে গেলেও গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে মহাখালী যেতে সময় লাগছে ৩-৫ ঘণ্টা। প্রধানমন্ত্রী চালকদের ৮ ঘণ্টা গাড়ি চালানোর সুপারিশ করেছেন। কিন্তু চালকদের গাজীপুর-ঢাকার যানজটেই কেটে যাচ্ছে কর্মের ৮ ঘণ্টা। যন্ত্রাংশ, টায়ারসহ গাড়ির কর্মক্ষমতাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

তিনি আরো বলেন, আমাদের নিজস্ব জরিপে দেখা যায়, আমাদের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে প্রতি মিনিটে সাতটি যাত্রীবাহী গাড়ি বিভিন্ন রোড থেকে গাজীপুর হয়ে ঢাকা অভিমুখে চলাচল করছে। এ হিসাবে, ঘণ্টায় যাতায়াত করছে ৪২০টি গাড়ি। ২৪ ঘণ্টায় চলাচল করছে ১০ হাজার ৮০টি গাড়ি। যানজট ও রাস্তা খারাপের কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হয় ২০ লিটার বেশি। ২৪ ঘণ্টায় ১০ হাজার ৮০ গাড়িতে ২ লাখ ১ হাজার ৬০০ লিটার তেল বেশি খরচ হয়, যার অর্থমূল্য ১ কোটি ৬১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। অর্থ্যাৎ, প্রতিদিন মালিকদের তেল বাবদ নষ্ট হচ্ছে ওই টাকা। পরিবহন শিল্পসহ সব ব্যবসায়ী মহলকে রক্ষা করার লক্ষ্যে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন না ঘটালে বৃহত্তর ময়মনসিংহের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রাখা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় থাকবে না।