কয়েক বছর ধরে সব বিতরণ কোম্পানিকে ‘সিস্টেম লস’ কমিয়ে আনার তাগিদ দিয়ে আসছে বিদ্যুৎ বিভাগ। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এরই মধ্যে সিস্টেম লস এক অংকে নামিয়ে এনেছে পাঁচ বিতরণ কোম্পানি। তবে এ কাজে এখনো পিছিয়ে রয়েছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো)। এখনো কোম্পানিটির সিস্টেম লস দুই অংকের ঘরে রয়ে গেছে।
পাওয়ার সেলের তথ্য বলছে, নেসকোর সিস্টেম লস তো কমছেই না, উল্টো বেড়ে চলেছে। কোম্পানিটির সিস্টেম লস ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ছিল ১০ দশমিক ৫২ শতাংশ, যা পরের অর্থবছর আরো বেড়ে ১০ দশমিক ৬২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
সিস্টেম লস বেড়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিউল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, মূলত বিদ্যুতের নন-স্ট্যান্ডার্ড লাইন, বকেয়া বিল, করোনা মহামারী এবং দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ সেবা নিরবচ্ছিন্ন না হওয়ায় সিস্টেম লস বেড়ে গেছে।
এদিকে নেসকো বাদে বাকি পাঁচটি বিতরণ সংস্থার সবগুলোই সিস্টেম লস কমিয়ে আনতে পেরেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সিস্টেম লস ছিল ৯ দশমিক ১২, ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা কমে ৮ দশমিক ৯৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) সিস্টেম লস ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ছিল ১০ দশমিক ১২। পরের অর্থবছর তা ৯ দশমিক ৯০ শতাংশে নেমে আসে। একই সময়ে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) সিস্টেম লস ৭ দশমিক ৩৭ থেকে কমে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশে, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) সিস্টেম লস ৭ দশমিক ১১ থেকে কমে ৬ দশমিক ৩২ এবং ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) সিস্টেম লস ৮ দশমিক ৮৩ থেকে কমে ৮ দশমিক ২৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যদিও এর বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে নেসকোর ক্ষেত্রে।
নেসকোর সিস্টেম লসের বিষয়ে পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মাদ হুসাইন বণিক বার্তাকে বলেন, কভিড মহামারীর কারণে পারফরম্যান্স ওঠানামা হয়েছে। সিস্টেম লসটা সেক্ষেত্রে হয়তো তা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়নি। আমরা সব বিতরণ কোম্পানিকে একটা টার্গেট দিয়ে থাকি। সিস্টেম লস যদি বেশি থাকে, সেটি যেকোনো মূল্যে তাদের কমিয়ে আনতে হবে। এজন্য বিতরণ কোম্পানিগুলোকে একটা চ্যালেঞ্জিং টার্গেট আমরা দিয়ে থাকি।
তিনি বলেন, কোম্পানির গঠন অনুযায়ী কোম্পানিটি যত আগে হয়েছে তার সিস্টেম লস তত কম। ডেসকো সবার আগে কোম্পানি হয়েছে। তাই তার সিস্টেম লসও কম। জবাবদিহিতার আওতায় কোম্পানিগুলোকে যত বেশি নিয়ে আসা হবে, তত বেশি তার পারফরম্যান্স ভালো হবে। আশা করি নেসকো সিস্টেম লস দ্রুত সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে সক্ষম হবে।
বিদ্যুতের অপচয় রোধে এবং সিস্টেম লস কমিয়ে আনতে সরকার বিদ্যুৎ খাতে ডিজিটালাইজেশন করছে। যার অংশ হিসেবে বিদ্যুতের প্রত্যেক গ্রাহকের আঙিনায় স্মার্ট প্রি-পেইড, গ্রিড ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশনসহ নানা প্রযুক্তি সংযুক্ত করায় বিতরণ ব্যবস্থায় সিস্টেম লস কমে এসেছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বিদ্যুতের বিতরণ ব্যবস্থায় সিস্টেম লস ছিল যেখানে ১৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ, বর্তমানে তা কমে ৮ দশমিক ৭৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুতের সিস্টেম লস কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্রি-পেইড মিটার অনেক বড় ভূমিকা পালন করছে। বিশেষত যে কোম্পানির যত স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার রয়েছে তুলনামূলকভাবে সেই বিতরণ কোম্পানির সিস্টেম লস তত কমে আসছে।










