রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পরিবেশ অনেকটাই থমথমে। গত বুধবার কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে এ অবস্থা বিরাজ করছে। অধিকাংশ হল ফাঁকা হয়ে গেছে, আতঙ্কে বাড়ি চলে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকাল পর্যন্ত ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী হল ছেড়ে গেছেন।
এ ব্যাপারে প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেটের সভা শেষে ১৭ জুলাই থেকে হল বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়। তবে বিভিন্ন কারণে অনেকে যেতে পারেনি। তাদের গতকাল সকালের মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিশেষ কারও সমস্যা হলে সেটা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে প্রায় সব শিক্ষার্থীই হল ছেড়েছে। বুধবার রাতে ১৭টি হলের প্রতিটিতে গড়ে ২৫-৩০ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছিল। পুরো ক্যাম্পাস এখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। তারা আপাতত ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছে। আমরা চাইলে সহযোগিতা করবে।’
কয়েকদিন ধরে চলা কোটা সংস্কার আন্দোলন সাংঘর্ষিক রূপ নেয় বুধবার। হল বন্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেড, ফাঁকা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে অবরুদ্ধ উপাচার্যকে প্রশাসনিক ভবন থেকে উদ্ধার করা হয়।
সরজমিন দেখা গেছে, বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা হল ত্যাগ করছেন।
মাদার বখশ হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সামনে চাকরির পরীক্ষা রয়েছে, তবু বাধ্য হয়ে হল ছাড়তে হচ্ছে। বাড়িতে গেলে পড়াশোনা হয় না। আবার কবে ক্যাম্পাস খুলবে তারও কোনো ঠিক নেই, এখন বাড়িই চলে যাচ্ছি।’
শহীদ জিয়াউর রহমান হলের শিক্ষার্থী নাজমুল বলেন, ‘হল ত্যাগ করাটা আমাদের জন্য খুব কষ্টকর। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিল, কিন্তু হল ত্যাগ করতে হবে কেন? প্রহরীরা হল ছাড়ার জন্য বারবার চাপ দিচ্ছেন। হঠাৎ করে কোথায় যাব? আজ কোনো যানবাহনও চলবে না, তাই ক্যাম্পাসের বাইরে কয়েকদিন থাকব। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে বাড়ি চলে যাব।’
বুধবার রাত থেকেই হল ছাড়তে শুরু করেন রাবি শিক্ষার্থীরা। শের এ বাংলা হল, মতিহার হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, শহীদ জিয়াউর রহমান হলের অধিকাংশ রুমই তালাবদ্ধ। অল্প যে কয়েকজন শিক্ষার্থী হলে আছেন, তারাও বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর আসাবুল হক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বুধবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ছাড়তে হবে, এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। আমাদের কিছুই করার নেই। আমরা শিক্ষার্থীদের যথেষ্ট সময় দিয়েছি।’ বিশ্ববিদ্যালয় খোলার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেয়া হয়নি।’










