দিনাজপুরের বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। ভালোমানের প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। গত সপ্তাহে যে কাঁচামরিচ ছিল ৬০ টাকা কেজি, এ সপ্তাহে তা দাঁড়িয়েছে ১৮০ টাকায়। দামের ‘ঝাল’ না কমার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা বলছেন, অতিবৃষ্টিতে দেশের অনেক এলাকার মরিচক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে দাম বেড়েছে।
শুধু কাঁচামরিচ নয়, বৃষ্টিতে প্রভাব পড়েছে সবজির দামেও। বেশির ভাগ সবজি কেজিপ্রতি ৫-১০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। গতকাল দিনাজপুরের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচামরিচ ও বিভিন্ন সবজি বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে।
দিনাজপুর গোর-এ শহীদ বড় ময়দানের খুচরা বাজারে দেখা যায়, কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ১৮০ টাকা, করলা ৪০, পেঁপে ৩০, কচু ৩০, কাঁকরোল ৩০, ভেন্ডি ২০, পটোল ৩০, চালকুমড়া ২৫ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ২৫-৩৫, লাউ ৩০, বরবটি ৪০, চিচিঙ্গা ২০, ধুন্দল ও ঝিঙে ২০, পুঁইশাক ১০, টমেটো ১৪০, কাঁচা কলা ১৫ ও শশা ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতা আল আমিন বলেন, যেসব এলাকায় সবজি চাষ হয়, সেখানকার বেশির ভাগ সবজিক্ষেত অতিবৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে। আবার কাঁচামরিচের গাছের নিচে পানি জমে গেলে গাছ মরে যায়। এতে মরিচের দাম বেড়েছে। এখন বর্ষাকাল বলে সবজির মৌসুম শেষ দিকে, তাই সরবরাহও কম। ফলে দাম একটু বেশি।
দিনাজপুর গোর-এ শহীদ বড় ময়দানের খুচরা বাজারের সবজি বিক্রেতা মোস্তফা বলেন, দিনাজপুরের বাইরে থেকে অধিকাংশ মরিচ আসে। এবার বৃষ্টিপাত দিনাজপুরে কম হলেও অন্যান্য জেলায় বেশ ভালো হয়েছে। এতে সেসব এলাকার মরিচগাছ মরে গেছে। ফলে বাজারে মরিচের দাম বেড়েছে।
গোর-এ শহীদ বড় ময়দানের কাঁচাবাজারে গতকাল সকালে কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী আমিনুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে আমি মরিচ কিনেছিলাম ৬০ টাকা কেজি। আজ বাজারে এসে দেখি মরিচ ১৭০-১৮০ টাকা কেজি। দোকানিরা বলছেন বৃষ্টির জন্য দাম বাড়ছে।
এছাড়া বাজারে আদা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ টাকায়, যা কোরবানির ঈদের আগে ছিল ১২০ টাকা। দেশী পেঁয়াজ ৫০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৩৫ টাকা কেজি, রসুন ৫০ টাকা, শুকনা মরিচ ২৫০-৩০০ টাকা।
বাহাদুর বাজারের মুদি দোকানি মোকাদ্দেস হোসেন বলেন, ভারতীয় পেঁয়াজ আসায় দেশী পেঁয়াজের দামও কিছুটা কমেছে। যেভাবে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে, দু-এক মাসের মধ্যে আর দাম বাড়বে না বলে মনে হয়।










