অবসর গ্রহণের পর সাত-আট বছর পার হলেও গ্র্যাচুইটির টাকা পাননি রাজশাহী চিনিকলের সাবেক শ্রমিকরা। পাওনা আদায়ে এবার তারা অভিনব কর্মসূচি পালন করেছেন। গতকাল বিকালে চিনিকলের ২০২৩-২৪ আখমাড়াই মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাফনের কাপড় গায়ে জড়িয়ে মানববন্ধন করেন তারা।

শ্রমিকরা জানান, বর্তমানে রাজশাহী চিনিকলের অবসরে যাওয়া ৩২০ শ্রমিক-কর্মচারী গ্র্যাচুইটির প্রায় ৩০ কোটি টাকা পাবেন। একেকজনের পাওনা ১০-১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। সাত-আট বছর ধরে তাদের টাকা দেয়া হচ্ছে না। এর মধ্যে একবার ৫০ হাজার ও একবার ৩০ হাজার টাকা করে দিয়েছে চিনিকল কর্তৃপক্ষ। তারা সব টাকা এক সঙ্গেই পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন।

অবসরে যাওয়া জ্যেষ্ঠ করণিক জাকির হোসেন বলেন, ‘আমি অবসর নিয়েছি ২০২০ সালে। আমিও গ্র্যাচুইটির টাকা পাইনি। দুবারে ৮০ হাজার টাকা পেলেও তা কাজে লাগানো যায়নি। আমরা সব টাকা একসঙ্গে চাই। এ টাকা কোথাও বিনিয়োগ করে শেষ বয়সে সংসারটা চালাতে চাই।’

সেন্টার ইনচার্জ পদ থেকে ২০২১ সালে অবসরে যাওয়া বশির উদ্দিন বলেন, ‘শ্রমিকদের ঘরে এখন চাল নেই। চাল কেনার টাকাও নেই। শ্রমিকরা অনাহারে দিন পার করছেন। তাদের পাওনা টাকা তারা পাচ্ছেন না। এ অবস্থা চলতে পারে না।’

এদিকে শ্রমিকদের এ কর্মসূচি যখন চলছিল তখন পাশেই হচ্ছিল আখমাড়াই মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের যুগ্ম সচিব ও পরিচালক (অর্থ) খোন্দকার আজিম আহমেদ।

অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের গ্র্যাচুইটির টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে খোন্দকার আজিম আহমেদ জানান, তিনি সবই দেখেছেন। দ্রুত শ্রমিকদের টাকা পরিশোধ করার ব্যবস্থা করবেন তিনি।