গতকাল শিশুটির চিকিৎসার বিষয়ে হাসপাতালে একটি উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড বসলেও শিশুটির চোখ থেকে গুলিটি বিঁধে মাথায় যেভাবে আটকে আছে, সেটা এখন অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে শিশুটিকে নিয়ে খুব বেশি আশাও দেখছেন না চিকিৎসকরা। অন্যদিকে মেয়ের জন্য আহাজারি করে আইসিইউর সামনে ফ্লোরে বসে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন রেশমির মা। মেডিকেল বোর্ডে নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাইফুল আলম, অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগের অধ্যাপক কেএম বাকি বিল্লাহ ও চক্ষু বিভাগের অধ্যাপক তানুজা তানজিন উপস্থিত ছিলেন।
রেশমির ভাই মো. ফয়সাল বলেন, ‘আমরা দুই ভাই তিন বোনের মধ্যে রেশমি সবার ছোট। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে মা রেশমিকে দোকানে পান কিনতে পাঠিয়েছিলেন। পরে কলোনিতে দুই পক্ষের গোলাগুলিতে রেশমির চোখে গুলি লাগে। সেই গুলি রেশমির চোখ দিয়ে মাথার মগজে গিয়ে বিঁধে আছে। এখন ও অনেকটা নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। ওর শরীরের অনেক কিছুই এখন কাজ করছে না। ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, ও নড়াচড়া করতে পারছে না, এমনকি নিশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। আল্লাহ যেন আমার বোনকে সুস্থ করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন—এটুকুই চাওয়া।’
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বণিক বার্তাকে জানান, রেশমির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তাকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সকালে শিশুটির উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তারা নিয়মিত মেয়েটিকে পর্যবেক্ষণ করছেন। শিশুটির চোখ দিয়ে মাথায় গুলিটি ঢুকে গেছে। এ পরিস্থিতিতে আপাতত অস্ত্রোপচার করা সম্ভব নয়। নিয়মিত শিশুটিকে পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর বায়েজিদ থানার রৌফাবাদ বিহারি কলোনিতে দুর্বৃত্তদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয় রেশমি। এ ঘটনায় একজন নিহত হন। অন্যদিকে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা রেশমিকে প্রথমে চমেকে নিয়ে গেলেও সেখানে আইসিইউ খালি না পেয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে হাসপাতালে খরচ বেশি হয়ে যাওয়ায় শুক্রবার সন্ধ্যায় রেশমিকে চমেকের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। রেশমির বাবা রিয়াজ আহমদ প্রতিবন্ধী। রৌফাবাদ কলোনির সামনে শাক বিক্রি করে সংসার চালান তিনি। পাঁচ সন্তানের মধ্যে রেশমিই সবার ছোট। দুই ছেলে কাজ করেন এবং এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি বায়েজিদ থানা পুলিশ।










