চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ঠাকুরপুর সীমান্তের কাছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে এক বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। নিহত রবিরুল (৪৫) পীরপুরকুল্লা গ্রামের মৃত মইতুল্লার ছেলে। বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঠাকুরপুর সীমান্তের ভারতীয় অংশে এ ঘটনা ঘটে। 

পীরপুরকুল্লা গ্রামবাসীর বরাতে কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল করিম বিশ্বাস জানান, গত বুধবার সন্ধ্যায় রবিরুলসহ তিন থেকে চারজন ভারতে অনুপ্রবেশ করে। তারা সেখানকার রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রাম থেকে গরু আনতে গিয়েছিল। রাত ১২টার দিকে গরু নিয়ে ফেরার সময় ঠাকুরপুর সীমান্তের ৮৮/৯২ নম্বর মেইন পিলারের কাছে পৌঁছালে বিএসএফের টহল দল তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই রবিরুলের মৃত্যু হয়। এ সময় তার অপর সহযোগীরা পালিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে চলে আসে। নিহত রবিরুলের মরদেহ পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগর মহাকুমা হাসপাতালে রাখা হয়েছে। 

দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন বলেন, পীরপুরকুল্লা গ্রামের রবিরুল নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছে বলে জানতে পেরেছি। 

ভারতীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার দিকে বিএসএফ সদস্য আনন্দ সিং চৌহান নিহত রবিরুলের মরদেহ পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। 

চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাঈদ মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান জানান, ‘ঠাকুরপুর সীমান্তে এক বাংলাদেশীকে গুলি করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি নিশ্চিত হতে আমরা বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের আয়োজন করেছি।’ 

এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে ভারতে অনুপ্রবেশ করে গরু আনতে যাওয়া আরেক বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ সদস্যরা। মিজানুর রহমান নামের ওই ব্যক্তি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বেনীপুর সীমান্তে গুলিবিদ্ধ হন।