দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে ছিল সিলেটের গোয়াইনঘাটের লেঙ্গুরা ইউনিয়নের সংরক্ষিত বনের জমি। গত বছর এ জমির কিছু অংশ উদ্ধার করে বন বিভাগ। উদ্ধারকৃত জমির ৭৫ হেক্টরে বন বিভাগের উদ্যোগে মুর্তা বাগান করা হয় গত জুনে। তবে পুনরায় এ জমির দখল নিয়েছে পূর্বের দখলদাররা। এমনকি জমি উদ্ধারে গিয়ে তাদের হামলার শিকার হতে হয়েছে বনকর্মীদের।
স্থানীয় প্রভাবশালীদের মদদে সিলেটে বনের জমি বেদখল হওয়ার অভিযোগ বেশ পুরনো। অনেক ক্ষেত্রে বন বিভাগ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের যোগসাজশেও জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেদখল হয়েছে গোয়াইনঘাটে বনের জমি। এ উপজেলায় কাগজে-কলমে বন বিভাগের জায়গা ২২ হাজার ২০৭ একর। তবে এর বেশির ভাগই এখন বেদখলে। সংরক্ষিত বনাঞ্চল এমনকি গ্রিন পার্কও বেদখল হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারেনি বন বিভাগ।
জানা গেছে, নিয়াগুল হাওড় মৌজায় সংরক্ষিত বনের শতাধিক হেক্টর জমি উদ্ধারের পর ৭৫ হেক্টরে মুর্তা বাগান করে বন বিভাগ। তবে ১ ডিসেম্বর এ জমি ফের দখলে নেয় স্থানীয় একটি গোষ্ঠী। তারা মুর্তা বাগান ধ্বংস করে জমিতে ধান চাষের উদ্যোগ নেয়। এতে বনকর্মীরা বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালায় দখলদাররা। বনকর্মীদের অভিযোগ, দখলদাররা ৬ লাখ টাকারও বেশি মুর্তা গাছ উপড়ে ফেলেছে।
গোয়াইনঘাট বিটের বনপ্রহরী শেখ ইমদাদ হোসেন বলেন, ১ ডিসেম্বর সকালে হঠাৎই বনের জমিতে আবাদ শুরু করে একদল লোক। আমরা বাধা দিলে তারা আমাদের মারধর করে। এতে আমাদের অন্তত পাঁচজন আহত হয়। এ ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানায় মামলা করেন বিট কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় মারুফ মিয়া, মাসুদ মিয়া, শামীম আহমদের নেতৃত্বে একটি চক্র এ বনের জমি দীর্ঘদিন দখলে রেখেছিল। তাদের কাছ থেকে উদ্ধারের পর সম্প্রতি তারা আবার জমি দখল করে নেয়।
তবে মারুফ মিয়ার অভিযোগ, বন বিভাগ তাদের কিছু জমিতে মুর্তা গাছ রোপণ করছে। তিনি নিজের জমিতে ১ ডিসেম্বর চাষাবাদ করতে গেলে বনকর্মীরা বাধা দেন।
বন বিভাগের সারি বন বিট কর্মকর্তা সাদ উদ্দিন বলেন, দখলদাররা বনের জমি দখল ও মুর্তা বাগান ধ্বংস করে ফেলেছে। এরা আগেও এ জমি দখলে রেখেছিল।
তবে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, স্থানীয় একটি গোষ্ঠী বনের জমি দখল করতে এসেছিল। তারা মুর্তা বাগান










