পরিবহন ধর্মঘটের মধ্যেই ফরিদপুরে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে আজ। এ সমাবেশের আগের দিন থেকে বাসসহ সব ধরনের ইঞ্জিনচালিত যানবাহন বন্ধে দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ প্রশাসনের প্রস্তাবিত স্থান শহর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন কোমরপুর আব্দুল আজিজ ইনস্টিটিউট মাঠ। সমাবেশকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই দূরদূরান্তের নেতাকর্মীরা শুক্রবার সমাবেশস্থলে এসে অবস্থান নেন।

ফরিদপুরে এ সমাবেশের আগের দিন ও সমাবেশের দিন বিআরটিসির বাস চলাচলও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। জেলা বাস মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে শহরে মাইকিং করে বলা হয়, মহাসড়কে সব ধরনের অবৈধ থ্রি-হুইলার (নছিমন, করিমন, ভটভটি, মাহিন্দ্র, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল) চলাচল বন্ধের দাবিতে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত ফরিদপুরের সব পথে বাস ও মিনিবাস বন্ধ থাকবে। ফরিদপুর বিআরটিসি বাস পরিবহনের সহকারী পরিচালক মোজাম্মেল হাসান মামুন গণমাধ্যমকে বলেন, বাস মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ৩৮ ঘণ্টার ধর্মঘট আহ্বান করেছে। আমরাও এ দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বাস চলাচল বন্ধ করছি।

এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা। শুক্রবার ফরিদপুর শহরের পুরনো বাসস্ট্যান্ড, নতুন বাসস্ট্যান্ড ও শহরের ইমামুদ্দিন স্কয়ার এলাকায় যাত্রীদের যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গিয়েছে। এদিকে নতুন টার্মিনালে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে বাসগুলো। বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের পাঁচটি জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, বরগুনা ও পিরোজপুর থেকে ঢাকা রুটে বাস চলাচল করছে না। ঢাকা রুটে বাস বন্ধের পূর্বঘোষণা না থাকায় যাত্রীরা বিপাকে পড়েছেন। এর আগে ৫ নভেম্বর বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশের সময়ও পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়। সে সময় দুদিন বরিশালে বাসসহ সব ধরনের ইঞ্জিনচালিত যানবাহন বন্ধ রাখা হয়েছিল।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ফরিদপুরের মাটিতে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ মহাসমাবেশে রূপান্তরিত হবে। আওয়ামী লীগ তার প্রথাগতভাবে বাস মিনিবাস বন্ধ করবে, থ্রি-হুইলার বন্ধ করবে, তারপর রাস্তা থেকে লোক নামিয়ে দেবে। এটা তারা রংপুর, খুলনা ও বরিশালেও করেছে।