লন্ডনে আয়োজিত আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থা (আইএমও)-এর ৩৪তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিয়ে বৈশ্বিক নৌপরিবহণ সেক্টরে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অবদান ও সাম্প্রতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেছেন নৌপরিবহণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার ( ২৪ নভেম্বর) বিশ্বের ১৭৬টি সদস্য দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এ সম্মেরনে অংশগ্রহণ করেন।

এ অধিবেশনের অন্যতম প্রধান অ্যাজেন্ডা আগামী দুই বছরের জন্য ৪০ সদস্যের কাউন্সিল নির্বাচন। এতে ‘সি’ ক্যাটাগরিতে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) নৌ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য আইএমও কাউন্সিল নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থিতার কথা উল্লেখ করে ১৭৫টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের বাংলাদেশের পক্ষে ভোট প্রদানের আহ্বান জানান। তিনি শিপ রিসাইক্লিং, শিপ বিল্ডিং ও নৌবাণিজ্যের বিভিন্ন সেক্টরে বাংলাদেশের ধারাবাহিক সাফল্য ও বিশ্বমানের নৌ প্রশিক্ষণের স্বীকৃতি তুলে ধরেন। বাংলাদেশ এরইমধ্যে এ দ্বীপ রাষ্ট্রসহ স্বল্পোন্নত দেশের নাবিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও সহযোগিতার আওতায় প্রতি বছর ১০টি বৃত্তি প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উদ্বোধনী অধিবেশনে উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশ একটি উপকূলীয় অর্থনীতি থেকে উদীয়মান মেরিটাইম জাতিতে রূপান্তরিত হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রধান তিন সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রার দ্রুত ডিজিটালাইজেশন ও অবকাঠামো উন্নয়নের একটি চিত্র তুলে ধরেন উপদেষ্টা। আইএমও-এর সঙ্গে দীর্ঘ ও গঠনমূলক অংশীদারিত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বাংলাদেশ আইএমও-এর বিভিন্ন কমিটি, বিশেষ করে সাব-কমিটি অন ইমপ্লিমেন্টেশন অব আইএমও ইনস্ট্রুমেন্টস-এ সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে ন্যায্য, স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল বৈশ্বিক সামুদ্রিক বিধিমালা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখছে।

আইএমও কাউন্সিলে পুনর্নির্বাচিত হলে বাংলাদেশ— উন্নয়নশীল সামুদ্রিক দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি ও অর্থায়নে ন্যায্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকরণে কাজ করবে। সেইসঙ্গে নাবিক ও মেরিটাইম সেক্টরে পেশাগত প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এগিয়ে নেবে। জলবায়ু-সহনশীল, লো-কার্বন শিপিংকে সমর্থন করবে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক আইএমও গঠনে নেতৃত্ব দেবে, যেখানে বড়-ছোট সব সদস্য রাষ্ট্র সমান সুযোগ পাবে বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন উপদেষ্টা।

অধিবেশন চলাকালে নৌপরিবহন উপদেষ্টা পাকিস্তানের মেরিটাইম বিষয়ক মন্ত্রী ও বেলিজের মিনিস্টার অব পাবলিক ইউটিলিটিস, অ্যানার্জি অ্যান্ড লজিস্টিকস-এর সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন।

পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠকে চট্টগ্রাম ও করাচি বন্দরের মধ্যে নৌবাণিজ্য সম্প্রসারণ, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ও পাকিস্তান ন্যাশনাল শিপিং কর্পোরেশনের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আর বেলিজের মিশেল চেবাটের সঙ্গে বৈঠকে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ, নৌবাণিজ্য এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন।