ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় আগুনে পুড়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মালিগ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে সাতজনের বাড়ি জেলার বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের ফেলাননগর গ্রামে। নিহতরা হলেন তিন নারী, চার শিশু ও চালক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক্সপ্রেসওয়ের মালিগ্রামে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিংয়ে ধাক্কা লাগলে অ্যাম্বুলেন্সটিতে আগুন ধরে যায়। এতে সাত যাত্রীর মৃত্যু হয়। আহত অ্যাম্বুলেন্সচালক মৃদুল মালোকে উদ্ধার করে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। বিকাল ৫টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন বোয়ালমারীর গুনবহা ইউনিয়নের ফেলানগর গ্রামের আজিজারের স্ত্রী তসলিমা বেগম (৫০), তসলিমা বেগমের মেয়ে বোয়ালমারীর শেখর ইউনিয়নের মাইট কুমড়া গ্রামের বাসিন্দা আলমগীরের স্ত্রী কমলা (৩০), সেনাসদস্য মাহমুদের স্ত্রী বিউটি (২৬), নিহত কমলার তিন সন্তান আরিফ (১২), হাসিব (১০) ও আফসা (১) ও বিউটির ছেলে মেহেদী (১০) এবং ফরিদপুর শহরের গুহলক্ষ্মীপুর এলাকার তকি মোল্যা সড়কের সুভাষ চন্দ্র মালোর ছেলে মৃদুল মালো (২৫)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বোয়ালমারীর গুনবহা ইউনিয়নের ফেলানগর গ্রামের সৌদি প্রবাসী আজিজার রহমানের স্ত্রী তসলিমা বেগম হৃদরোগে আক্রান্ত হলে এক মাস আগে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা শেষে বড় মেয়ে কমলা বেগমের বাসায় ছিলেন। গতকাল সকালে তারা ঢাকা থেকে বোয়ালমারী গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে দুর্ঘটনায় সাতজনই প্রাণ হারান।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘একটি দ্রুতগামী মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফ্লাইওভারের রেলিংয়ে ধাক্কা দিলে মুহূর্তে আগুন ধরে যায় মাইক্রোবাসটিতে। এতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মাইক্রোবাসে থাকা পাঁচ যাত্রী ঘটনাস্থলে নিহত হন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়।’
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার জানিয়েছেন, এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) বিপুল চন্দ্র দেকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত শেষে তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে মরদেহ দাফনের জন্য ২০ হাজার করে টাকা দেয়া হবে। পাশাপাশি স্বজনরা আবেদন করলে মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের সদস্যদের কাছে তুলে দেয়া হবে।










