তবে প্রাথমিকভাবে সিস্টেম লস ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘আমার সময় (২০০১-০৬) বিদ্যুতে সিস্টেম লস ছিল ৬ শতাংশ। এখন এসে দেখছি সেটি ১০ শতাংশ হয়ে গেছে। আমরা যদি সিস্টেম লস কমাতে পারি, তাহলে কেন জনগণের ওপর চার্জ বাড়াতে হবে? আমরা বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চাই না।’
সচিবালয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সভাকক্ষে গতকাল ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের (এফইআরবি) নির্বাহী কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ কথা বলেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘এখন ১০ শতাংশ সিস্টেম লস রয়েছে। ১ শতাংশ সিস্টেম লস ৫০ লাখ টাকা হয়। তাহলে ১০ শতাংশ সিস্টেম লসে কত টাকা হয়? এটা তো একবারে কমানো যাবে না। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা। কিন্তু প্রাথমিকভাবে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য। আমরা কাজ করছি এটা নিয়ে।’
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা ও দায়দেনা নিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতে এত দেনা। আবার বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে, কিন্তু জ্বালানি নেই। কেন্দ্রগুলো বসিয়ে রেখে টাকা গুনতে হচ্ছে। এ রকম একটা বিশৃঙ্খল ব্যবস্থার মধ্যে আমি বসছি এ মন্ত্রণালয়ে। আটদিন বসেছি মন্ত্রণালয়ে। এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা যায়, তার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসেছিলাম।’
গ্যাস সংকটের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘গ্যাস সংকট কি এখন থেকে শুরু হয়েছে? এ দেশে একটা কূপ খনন করা হয়নি। গ্যাসের জন্য রান্না হচ্ছে না এমন খবর শোনা যাচ্ছে, কিন্তু সিস্টেমে তো গ্যাস নেই, উৎপাদন হচ্ছে না। গ্যাস না থাকলে আমার কী করার আছে? এখানে ম্যানেজমেন্ট ফেল হচ্ছে বিষয়টি এমন নয়, গ্যাস উৎপাদন না হওয়ার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’
জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘গ্যাস উত্তোলন করার জন্য খুব জোরালো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিদেশী গ্যাসের ওপর নির্ভর করব না আমরা। দেশের গ্যাস কীভাবে উৎপাদন করা যায়, সে বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। গ্যাস কূপ খননের জন্য আমরা রিগ কেনার পরিকল্পনা করছি। সে জন্য ম্যানপাওয়ার লাগবে, তাদের প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।’
বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সমঝোতার বিষয়েও সরকার ভাবছে, যাতে উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করা যায়।’ একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার চাপের কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। লোকসান কমাতে না পারলে দায় বাড়বে, তখন আইএমএফ চাপ দিতে পারে বলেও জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমি আগে যখন এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলাম, ২০০৪ সালে নীতিমালা করেছিলাম। তাতে বলা ছিল, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি অংশীদারত্ব থাকবে ৩৫ শতাংশ, আর সরকারি থাকবে ৬৫ শতাংশ। পরবর্তী সরকার এটা মানেনি। এখন বেসরকারি অংশ হয়ে গেছে ৮২ শতাংশ, যে কারণে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা জনগণের ওপর দায় চাপিয়ে দিয়ে গেছে। এটি এত টাকার দায়, ম্যানেজ করা কঠিন। বিদ্যুতের দাম বাড়াতে পারব না। আমরা চেষ্টা করছি উইন উইন সিচুয়েশনে আনতে।’
এফইআরবির বিদায়ী চেয়ারম্যান শামীম জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এম আজিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিদায়ী কমিটি ও নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এফইআরবি নির্বাহী পরিচালক সেরাজুল ইসলাম সিরাজ।










