রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান ও বারিধারায় আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। নিজেদের শীর্ষ সন্ত্রাসী পরিচয় দিয়ে দিনেদুপুরে ক্যাডার বাহিনী নিয়ে তারা হাজির হচ্ছে ব্যবসায়ী-শিক্ষাবিদদের কাছে। দাবি করা মোটা অংকের চাঁদার অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে সন্ত্রাসীরা। সম্প্রতি এমন হুমকি পেয়ে গুলশান ও ভাটারা থানায় মামলা করেছেন ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের কর্ণধার দীলিপ কুমার আগরওয়াল ও ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেসের (ইউআইটিএস) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান। গত ২ ও ৫ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট থানায় এ-সংক্রান্ত দুটি মামলা করেছেন তারা।

দীলিপ কুমার আগরওয়ালার পক্ষে গত ৫ জানুয়ারি গুলশান থানায় মামলাটি করেছেন ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ফয়সাল আহম্মেদ। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের ১৮ নভেম্বর বেলা ৩টা ৪৪ মিনিটে প্রতিষ্ঠানের করপোরেট সেলফোন নম্বরে কল দিয়ে একজন নিজেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে ওই ব্যক্তি ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীলিপ কুমার আগরওয়ালার ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন করে ও ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে একই দাবি জানায়। প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগ থেকে ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে চাঁদার অর্থ না দেয়ার বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়। এতে প্রাণনাশের হুমকি দেয় শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচয় দেয়া ওই ব্যক্তি।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে ফয়সাল আহম্মেদ বণিক বার্তাকে বলেন, গত বছরের শেষ দিকে চাঁদা দাবি করার পর পরই বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

গুলশান থানা সূত্রে জানা যায়, মামলাটি নথিভুক্ত হওয়ার পর প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে চাঁদা দাবি করা ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের কাজ শুরু করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী দাবি করা ওই ব্যক্তির প্রকৃত নাম জুয়েল রানা (৩৮)। সে গাজীপুরের শ্রীপুর থানা এলাকার বড়ালিদাহ গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে। বর্তমানে সে ঢাকায় বসবাস করছে। তবে পরিচয় নিশ্চিত হতে পারলেও এখনো তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের করা চাঁদাবাজির মামলাটি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। চাঁদা দাবি করা ওই যুবকের পরিচয় নিশ্চিত হলেও অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে বেসরকারি ইউআইটিএস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মানের কাছে চাঁদা দাবির পর প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে ২ জানুয়ারি ভাটারা থানায় আরেকটি মামলা নথিভুক্ত হয়। উপাচার্যের পক্ষে ওই মামলাটি করেন তার ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) মোস্তফা কামাল।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ইউআইটিএস দীর্ঘদিন বাড্ডার জামালপুর টুইন টাওয়ার-২-এ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার পর চলতি মাসে ভাটারায় নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু করে। তবে সেখানে স্থানান্তর প্রক্রিয়ার শুরুতেই শওকত হাসান মিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে ৫৭ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদার অর্থ নেয়ার জন্য বেশ কয়েক দফায় সে অস্ত্রধারী ক্যাডার বাহিনী নিয়ে উপাচার্যের অফিস কক্ষেও হাজির হয়েছে। এ ঘটনায় তাত্ক্ষণিকভাবে গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

জিডি করার বিষয়টি জানতে পেরে গত বছরের ২০ নভেম্বর শওকত হাসান মিয়া তার সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী নিয়ে ইউআইটিএসের ভাটারায় অবস্থিত স্থায়ী ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের ১০০ গজ দূরে উপাচার্যের গাড়ি থামিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

গুলশান থানায় করা জিডির তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। সেখানে ইউআইটিএসের উপাচার্যের কাছে ৫৭ কোটি টাকা অবৈধভাবে দাবি করার অভিযোগটি প্রমাণিত হয়। পরে আদালত থেকে শওকত হাসান মিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে গতকাল রাজধানীর কল্যাণপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

অভিযানের নেতৃত্বে থাকা গুলশান থানার এসআই মো. মনির জানান, দারুস সালাম থানার সহযোগিতায় সকালে কল্যাণপুর থেকে শওকত হাসান মিয়াকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইউআইটিএস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে ৫৭ কোটি টাকা দাবির অভিযোগ রয়েছে।