ইলিশসহ বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদী ও সাগরের মাছ দেশের অভ্যন্তরে সরবরাহ করা হয়। এছাড়া প্রতি বছর দুর্গা পূজার সময় বাংলাদেশ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ইলিশ ভারতেও রফতানি হয়। যার একটি অংশ বরিশাল থেকে পাওয়া যায়। দেশের বাজারে মাছ সরবরাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) থেকে প্যাকিং সার্টিফিকেট নেয়া বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। কিন্তু নিয়মের তোয়াক্কা না করেই ব্যবসায়ীরা মাছ সরবরাহ করছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ বাজারে ইলিশ সরবরাহের জন্য পরিবহন প্রতি বিএফডিসি থেকে প্যাকিং সার্টিফিকেট নেয়া বাধ্যতামূলক। তবে মৎস্য শ্রমিক নেতারা এ ব্যবস্থাপনাকে তোয়াক্কা করছেন না। ২০০৯ সালে ব্যবসায়ীরা পোর্ট রোডে চলে যাওয়ার পর থেকে কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে দপ্তরটির ভবন। এতে সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে।
এ বিষয়ে বিএফডিসি বরিশাল শাখার ব্যবস্থাপক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাসুদ শিকদার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্যাকিং সার্টিফিকেট নেয়ার নিয়ম থাকলেও কোনো ব্যবসায়ীই তা নেন না। মাছ পরিবহনের ক্ষেত্রে তারা এ সার্টিফিকেট কোথায় পান বা আদৌ কোনো সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন কিনা, তা আমার জানা নেই। আমি চেষ্টা করছি বরিশাল বিএফডিসিটি পুনরায় চালু করতে। বিএফডিসি চালু হলে সবকিছুই পর্যায়ক্রমে চালু হবে।’
বরিশাল মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে কীর্তনখোলা নদীতীরে ১ একর ২৩ শতাংশ জমির ওপর বিএফডিসির অধীনে বরিশাল মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। পুরো অবকাঠামো চালুর পর ২০০৭ সালে পূর্ণাঙ্গভাবে মৎস্য অবতরণ ও বাজারের কার্যক্রম চালু করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সালে মৎস্য শ্রমিক নেতারা পোর্ট রোডে চলে গেলে বন্ধ হয়ে যায় বাজারটি। বাজার বন্ধ থাকলেও এখনো বিএফডিসি বরিশাল শাখা কীর্তনখোলা নদীতীরেই অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বিএফডিসির দুই কর্মচারী জানান, এখান থেকে মাছ প্যাকিংয়ের জন্য প্রস্তুত করা হলে বিএফডিসি কর্মকর্তারা প্যাকিং সার্টিফিকেট দিতেন। প্যাকিং সার্টিফিকেটে উল্লেখ থাকত একটি ট্রাকে কত কার্টন মাছ রয়েছে। মাছের আকৃতি কেমন এবং কী কী মাছ রয়েছে। ফলে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মাছ পরিবহনে সুবিধা হতো। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সহজে প্যাকিং সার্টিফিকেট দেখে বুঝতে পারত কী পরিবহন হচ্ছে। এসব সার্টিফিকেট কেউ এখন বিএফডিসি থেকে নিচ্ছেন না। সরকারনির্ধারিত প্রতি ট্রাকের প্যাকিং সার্টিফিকেটের অনুকূলে ৩০০ টাকা ফি দিতে হতো। প্যাকিং সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো মাছ এক বাজার থেকে আরেক বাজারে আনা-নেয়ার নিয়ম নেই। আড়ৎগুলোরও সরবরাহ করার এখতিয়ার নেই। কিন্তু বিএফডিসির সার্টিফিকেট না নিয়ে কীভাবে তারা মাছ পরিবহন করে তা জানা নেই তাদের।
বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সেখান থেকে মাছ পরিবহনে কোনো যানবাহনেও প্যাকিং সার্টিফিকেট দেয়া হয় না।
কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলাপ করলে তারা জানান, প্যাকিং সার্টিফিকেট নিতে গেলে মাছের বর্ণনা দিতে হয়। তা দিতে অস্বীকৃতি জানান অধিকাংশ আড়তদার ও ব্যবসায়ীর। যে কারণে নিয়ম জানলেও তারা এ সার্টিফিকেট নেন না।
পোর্ট রোডের তারেক নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘প্যাকিং সার্টিফিকেট দেয়ার জন্য আমাদের যেমন এগিয়ে যাওয়া উচিত, তেমনি বিএফডিসিরও এগিয়ে আসা উচিত। তারা যদি কোনো ট্রাক আটকে দিত বা ব্যবসায়ীদের তাগিদ দিত তাহলে আমরা বুঝতাম সার্টিফিকেটের দরকার আছে। নিয়ম প্রতিপালনে বিএফডিসি কিছুই করে না।’










