ষড়ঋতুর বাংলাদেশে প্রায় প্রত্যেক ঋতুতে কোনো না কোনো ফুল ফোটে। এসব ফুল থেকে মধু আহরণের বড় সুযোগ রয়েছে। একটা সময় মধু আহরণ ছিল শুধু সুন্দরবনকেন্দ্রিক। তবে সময়ের ব্যবধানে সরিষা ফুল থেকে মধু উৎপাদন বেড়েছে বহুগুণে। ভালো দাম, উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় মানিকগঞ্জে এ বছর বেড়েছে সরিষার আবাদ। এসব খেতের পাশেই বসানো হয়েছে মৌবক্স। তবে ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতে মৌবক্সে ও বাইরে অনেক মৌমাছিই মারা গেছে। এতে মধু সংগ্রহ কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন খামারিরা।
কৃষি কর্মকর্তা ও সরিষা চাষীরা বলছেন, এ বছর আবহাওয়া খারাপ থাকায় সরিষার ফলনও কম হবে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বেশি পরিমাণ জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। তবে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে কিনা তা আগাম বলা যাচ্ছে না।
মৌচাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মধু উৎপাদনও ভালো ছিল। এ বছর শীতের শুরু থেকেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিপাকে পড়েছেন তারা। গত বছর জেলার বিভিন্ন সরিষা খেতের পাশে প্রায় সাত হাজার মৌবক্স বসিয়েছিলেন। এবার আবহাওয়া খারাপ থাকায় মৌবক্স বসানো হয়েছে তার অর্ধেক, প্রায় সাড়ে তিন হাজার। ঘন কুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহের কারণে বক্স থেকে মৌমাছি বের হতে পারছে না। তাছাড়া অনেক মৌমাছি বক্সের ভেতর ও বাইরে মারা যাচ্ছে। সরিষা ফুলে কুয়াশা জমে থাকায় মৌমাছিও মধু আহরণ করতে পারছে না।
সদর উপজেলার দিঘী ইউনিয়নের অনেক এলাকায় সরিষার আবাদ হয়েছে। খেতের পাশেই সাতক্ষীরার মৌচাষী শরিফুল ইসলাম বসিয়েছেন ১০০টি মৌবক্স।
তিনি জানান, শীতের শুরু থেকেই আবহাওয়া খারাপ রয়েছে। ঘন কুয়াশার পাশাপাশি শৈত্যপ্রবাহের কারণে মধু আহরণ করতে পারছে না মৌমাছি। তার ১০০ বক্সে চার লক্ষাধিক মৌমাছি রয়েছে। অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় বক্সের ভেতর ও বাইরে কয়েক হাজার মৌমাছি মারা গেছে। গত বছর এ সময় যে পরিমাণ মধু সংগ্রহ করেছিলেন, এবার তার অর্ধেকও হয়নি।
কৃষকরা জানান, এ বছর শীতের শুরু থেকেই ঘন কুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহে সরিষার ফুলও বেশি হয়নি। আবার যে পরিমাণ ফুল হয়েছে তার অনেকাংশ ঝরে পড়েছে। মৌমাছিও স্বাভাবিক পরাগায়ন করতে পারছে না। এতে সরিষার ফলনে ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সদর উপজেলার উকিয়ারা গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত বছর সাড়ে তিন একর জমিতে সরিষার আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছিলাম। কিন্তু এ বছর একই জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। ফুল ঝরে যাওয়ায় ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত বছর জেলায় সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৩ হাজার হেক্টর জমি। চলতি মৌসুমে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৮ হাজার ৯৪৭ হেক্টর জমি। এছাড়া এ বছর মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭১ হাজার ৩৫০ কেজি।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শাহজাহান সিরাজ বলেন, ‘শীতের শুরু থেকেই ঘন কুয়াশার সঙ্গে কয়েক দফায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। এমন প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সরিষার ফলন ও মধু উৎপাদন উভয়ই কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’










