রাজধানীর ডেমরা থানায় ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের অভিযোগে রুজুকৃত মামলায় কণ্ঠশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেলকে (৩১) গ্রেফতার করেছে ডিএমপির ডেমরা থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ মে) রাত আনুমানিক পৌনে দুইটায় ডেমরা থানাধীন স্টাফ কোয়ার্টার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের ডেপুটি কমিশনার তালিবুর রহমান এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডেমরা থানা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নোবেলের সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিচয় হয়। নোবেলের সঙ্গে ভুক্তভোগীর মাঝেমধ্যে মুঠোফোনে যোগাযোগ হতো। গত বছরের ১২ নভেম্বর নোবেল ভুক্তভোগীর সঙ্গে মোহাম্মদপুর গিয়ে দেখা করে। সে সময় ডেমরার বাসার স্টুডিও দেখানোর কথা বলে নোবেল তার বাসায় ভুক্তভোগীকে নিয়ে এসে আরো ২ থেকে ৩ জন অজ্ঞাত সহযোগীর সহায়তায় আটকে রাখে। ঘটনার সময়ে নোবেল ভুক্তভোগীর মোবাইল ভেঙে ফেলে, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মারধর করে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণপূর্বক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। ২০২৫ সালের ১৯ মে পর্যন্ত ভুক্তভোগীকে নোবেল তার বাসায় আটক রাখে।

এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নোবেল কর্তৃক ভুক্তভোগীকে মারধরের একটি ভিডিও ভাইরাল হয় যার মাধ্যমে ভুক্তভোগীর পরিবার তাকে চিনতে পেরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে। ৯৯৯-এ কলের সাপেক্ষে গতকাল (১৯ মে) রাত ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে ডেমরা থানা পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ভিকটিমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডেমরা থানায় একটি নারী নির্যাতন মামলা রুজু করা হয়।

থানা সূত্র আরো জানিয়েছে, মামলাটি তদন্তকালে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত কণ্ঠশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পরে গ্রেফতারকৃতকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের গায়ক হলেও নোবেল খ্যাতি অর্জন করেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জি বাংলা চ্যানেলের গানবিষয়ক রিয়েলিটি শো ‘সা রে গা মা পা’ থেকে। ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় জিততে না পারলেও তৃতীয় হন নোবেল। এরপর থেকে তার জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করে।

তবে ব্যক্তিগত জীবন সামনে আসতেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। স্ত্রীকে মারধর, মাদক সেবন, মদের ঘোরে ভাঙচুর, টাকা নিয়ে শো করতে না যাওয়া—এমন নানা অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্নবিদ্ধ হন।