বরিশাল সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে একটিই মাত্র ছাত্রাবাস। ৩০০ শিক্ষার্থী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন হলেও ছাত্রাবাসটিতে এখন ভূতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। আবাসিক শিক্ষার্থী কমতে থাকায় ২০২২ সালের নভেম্বরে ছাত্রাবাসটি বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। যদিও বন্ধের নোটিসে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য করা, র‌্যাগিং ও ছাত্রাবাসে বহিরাগতদের রাখাসহ বিভিন্ন কারণে তারা ছাত্রাবাসবিমুখ হয়ে পড়েছেন। নতুন শিক্ষার্থীরাও এসব কারণে ছাত্রাবাসে থাকতে চান না। ১৫ মাস ধরে ছাত্রাবাস বন্ধ থাকায় তাদের মেসে থাকতে হচ্ছে।

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন কারণে শিক্ষার্থীরা ছাত্রাবাস ত্যাগ করতে থাকেন। একপর্যায়ে আবাসিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা নেমে আসে মাত্র ৩০ জনে। সীমিতসংখ্যক শিক্ষার্থী দিয়ে ছাত্রাবাসটি পরিচালনা ব্যয়বহুল হওয়ায় কর্তৃপক্ষ এটি বন্ধ করে দেয়। কর্তৃপক্ষের দেয়া নোটিসে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় ছাত্রাবাসটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

ইনস্টিটিউটের পাওয়ার বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের এক শিক্ষার্থী নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ বিল বকেয়ার অজুহাতে নোটিস দিয়ে ছাত্রাবাস বন্ধ করেছে। আসলে এখানে রাজনৈতিক ব্যাপার আছে। দুজন অছাত্র ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণ করে। মূলত তারা আধিপত্য দেখাতে ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের পুঁজি করেছিল। তাদের কর্মসূচিতে না গেলে রাতে র‌্যাগিং করা হতো। এক পক্ষের কর্মসূচিতে গেলে আরেক পক্ষ নির্যাতন করত। এসব কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রাবাস ছেড়ে আশপাশের মেসে ওঠেন। আর নতুন শিক্ষার্থীরা নির্যাতনের কথা শুনে ছাত্রাবাসবিমুখ হন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী রুহুল আমীন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সংস্কার করা দরকার, তাই সাময়িকভাবে ছাত্রাবাসটি বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। ছাত্রাবাসের ধারণক্ষমতা ছিল ২০০-২২০ জন। একজন শিক্ষার্থী ছাত্রাবাসে না থাকলে তেমন প্রভাব পড়ে না। ছাত্রাবাস বন্ধের আগে আবাসিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ৩০-৩৫ জনে নেমে এসেছিল।’

আবাসিক শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য করা ও র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ বলেন, ‘আপনি তো সবই জানেন, তাহলে আমার মুখ থেকে কেন জানতে চান। ওইসব কারণেই হোস্টেল বন্ধ রাখা হয়েছে।’

ছাত্রাবাসের সর্বশেষ সুপার ছিলেন ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার বিভাগের চিফ ইনস্ট্রাক্টর মুসফিকুর রহমান। সম্প্রতি বদলি হওয়া এই শিক্ষক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীস্বল্পতার জন্য ২০২২ সালের নভেম্বরে ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। জরাজীর্ণ ভবনে থাকতে ছাত্রদের অনীহা ছিল। ছাত্র সংখ্যা এত কমেছে, ছাত্রাবাসের ব্যয় উঠত না।’

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ছাত্রদের একাংশ এতটাই উশৃঙ্খল তারা ছাত্রাবাসে সব অপকর্মই করত। যে কারণে বাধ্য হয়ে হল বন্ধ করে দিতে হয়েছে।’