জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কবির বাল্যস্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার দরিরমাপুর হাইস্কুল (বর্তমান ত্রিশাল সরকারি নজরুল একাডেমি) মাঠে অবস্থিত নজরুল মঞ্চে তিন দিনব্যাপী নজরুল জন্মজয়ন্তীর দ্বিতীয় দিন গতকাল আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক এনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এমপি।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ বলেন, নজরুল সমাজে সাম্য, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, শোষণমুক্ত সমাজ ও বঞ্চনার হাত থেকে রক্ষায় মানুষকে উজ্জীবিত করেছিলেন। তার কবিতা ও গান মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতাকামী বাঙালিকে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
তিনি আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পর ভারত থেকে কবি নজরুলকে বাংলাদেশে নিয়ে এসে যথাযথ মর্যাদা দিয়েছিলেন। নজরুল স্বাধীনতা ও সাম্যের জন্য আজীবন লড়াই করে গেছেন। তিনি তার বুদ্ধিভিত্তিক লেখনির মাধ্যমে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সর্বস্তরের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এমপি, আনোয়ারুল আবেদিন খান এমপি, জুয়েল আরেং এমপি, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মনিরা সুলতানা মনি, ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম। নজরুল স্মারক বক্তা ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও নজরুল গবেষক এএফএম হায়াতুল্লাহ। কবিকে স্মরণে আলোচনা সভার পর স্থানীয় ও দেশবরেণ্য শিল্পী এবং কবিদের উপস্থিতিতে সংগীত পরিবেশন ও কবিতা আবৃত্তির আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে ত্রিশালে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে মানুষের ঢল নামে। নজরুলমেলায় হাজার হাজার দর্শক ও ক্রেতার উপচে পড়া ভিড় ছিল। বর্ণিল সাজে সেজেছে ত্রিশালের প্রতিটি এলাকা। স্থানীয় উদ্যোগে ভবনগুলোয় আলোকসজ্জা করা হয়েছে। পুরো এলাকায় নেয়া হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মেলায় প্রায় তিন শতাধিক স্টল এসেছে। এছাড়া কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে তিন দিনব্যাপী নজরুল জন্মজয়ন্তী উৎসব।










