বান্দরবানের লামা উপজেলায় শতাধিক একর জুম ভূমিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দুইজন গ্রেফতার হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতের নির্দেশের পর আজ শুক্রবার রাত ৮টায় আসামীদের গ্রেফতার করে পুলিশ। বণিক বার্তাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (লামা সার্কেল) মো. রেজওয়ানুল ইসলাম।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মো. দেলোয়ার হোসেন ও মো. আরিফ হোসেন। তারা দুজনই এজাহারভুক্ত আসামী। মামলার অন্য আসামীরা হলেন, লামা রাবার কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. কামাল উদ্দিন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, মো. জহিরুল হক, মো. নুরু, দুর্যোদন ত্রিপুরা ও হাজিরাম ত্রিপুরা।
এর আগে বান্দরবানের লামা উপজেলায় শতাধিক একর জুম ভূমিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলার এজাহার নিতে লামা থানাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার লাংকম ম্রোর করা আবেদনের শুনানি শেষে এ নির্দেশ দেন লামা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেলাল উদ্দিনের আদালত। লামা কোর্ট পুলিশের জিআরও বিশ্বজিত সিংহ জানান, ৫০৬ নং স্মারক মূলে আদালতের দেয়া নির্দেশ সংক্রান্ত সব নথি গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর লামা থানায় পৌঁছানো হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, লাংকমপাড়া, রেংয়েনপাড়া ও জয়চন্দ্র ত্রিপুরাপাড়ার ৩৯টি পরিবার শতাধিক বছর ধরে প্রজন্ম পরম্পরায় বসবাস করে আসছে। গত মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) বেলা ১১ টার দিকে অবৈধ দখলের উদ্দেশ্যে পাড়াবাসীর প্রথাগত জুম ভূমির শতাধিক একর জমি আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এতে অংশ নেয় কোম্পানীর মো. কামাল উদ্দিনসহ ১৫ থেকে ২০ জন লোক। এসময় মেনরাও, মেনপাও, মেনরুম ও লাংকম ম্রো বসতঘরসহ ঘরের সব কিছু আগুনে পুড়ে যায়। একইসঙ্গে শতাধিক ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলে অগ্নিসংযোগকারীরা।
স্থানীয়রা জানান, অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর, ফলজ ও বনজ গাছ সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এছাড়া নানা প্রজাতির পাখির ছানা ও ছোট বড় বিভিন্ন প্রজাতির অনেক বণ্যপ্রাণীরও মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে দুপুর ২ টার দিকে লামা উপজেলার সহকারী কমিশনারসহ (ভূমি) আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
মামলার বাদী লাংকম ম্রো বণিক বার্তাকে জানান, ঘটনার পরদিন বুধবার মামলা করতে গিয়েও মামলা নেয়নি লামা থানা পুলিশ। তাই পরদিন গতকাল বৃহস্পতিবার লামা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদন করা হয়। এ ঘটনায় মুঠোফোনে বার বার চেষ্টা করেও মো. কামাল উদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।










